কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌ চলাচল বজায় রাখতে সামরিক সম্পদ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই মোতায়েন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে বলে সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাতে খবর প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমগুলো।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সেনা ও প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর উদ্দেশ্যে চলতি মাসেই মন্ত্রিসভার অনুমোদন নেওয়ার পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। এরপর জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত একটি সম্মতি প্রস্তাব উত্থাপন করার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
সিউল যেসব বিকল্প বিবেচনা করছে, তার মধ্যে রয়েছে সামুদ্রিক টহল বিমান, রসদ সরবরাহকারী বা লজিস্টিক সহায়তাকারী জাহাজ এবং মাইন শনাক্ত ও তা অপসারণে দক্ষ বিশেষায়িত দল পাঠানো। এই সম্ভাব্য সহায়তার ধরন ও পরিধি নির্ধারণের লক্ষ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ইতোমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
অবশ্য দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ‘ব্লু হাউস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে কীভাবে বাস্তবসম্মত উপায়ে নৌ চলাচল নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সেনা পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে—এমন তথ্য বাস্তবতার চেয়ে কিছুটা ভিন্ন বলে উল্লেখ করেছে তারা।
এর আগে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছিলেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের মধ্যে সরাসরি সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। এরই প্রেক্ষিতে তিনি সিউলের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়ার পরিধি কমিয়ে দিয়েছেন বলেও জানান। ওয়াশিংটনের এমন অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখেই সিউল এখন হরমুজ প্রণালিতে সামরিক সম্পদ মোতায়েনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় স্পষ্ট করেছে যে, এ বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে মুক্ত নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে চলতি বছরের শেষ নাগাদ সামরিক সম্পদ মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া। সরকারি ও সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটির কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।