২০২৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর (2026) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, লেবাননে গত প্রায় তিন বছর ধরে চলা ইসরাইলি হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ৯ হাজারে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৯২৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন আরও ৩০ হাজার ৫৯৫ জন। দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে সংঘাত আরও তীব্র রূপ নেয়। কেবল এই সময়কালের মধ্যেই ৪ হাজার ৩৫৮ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৩৫৯ জন আহত হয়েছেন। হতাহতদের একটি বড় অংশই সাধারণ বেসামরিক নাগরিক। পরিসংখ্যান বলছে, মোট হতাহতদের ৯৪ শতাংশই লেবাননের নাগরিক। বাকিদের মধ্যে সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া হতাহত ব্যক্তিদের ৮৬ শতাংশই পুরুষ এবং প্রায় এক-চতুর্থাংশের বয়স ১৮ বছরের কম।
ইসরাইলের অব্যাহত বিমান ও স্থল হামলায় লেবাননের স্বাস্থ্যসেবা খাত চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দেশটির অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের লক্ষ্য করে ১৮০ বার হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় ১৩৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত এবং ৪১৬ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া হামলায় ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১৮৪টি অ্যাম্বুলেন্স। ১৭টি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে তিনটি হাসপাতালের সব ধরনের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইসরাইলি হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল ও নাবতিয়েহ এলাকায়। তবে দেশটির প্রায় সব প্রদেশেই কম-বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
ইসরাইল দাবি করে আসছে, তারা লেবাননে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে বাস্তবে এসব হামলায় ব্যাপক হারে বেসামরিক মানুষ হতাহত হচ্ছেন। উল্লেখ্য, গত মার্চে ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননেও হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।