প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ৪২। নতুন বেতন কাঠামোয় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই কাঠামোর আওতায় নিম্ন গ্রেডে বেতন বৃদ্ধির হার বেশি রাখার পাশাপাশি ঝুঁকি ভাতা বাড়ানো হয়েছে এবং কমানো হয়েছে নববর্ষের ভাতা। নতুন বেতন কাঠামো প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে এবং অর্থ বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। শিগগির ভেটিংয়ের জন্য এটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে বেতন কাঠামো অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন ও নিট পেনশন তিন ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বিভিন্ন ভাতা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর হবে। চলতি অর্থবছরে মূল বেতন ও নিট পেনশন বাবদ ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে, যা চলতি বরাদ্দের চেয়ে ৩৭ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা বেশি। ২০২৭-২৮ অর্থবছরে এই বাস্তবায়নে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা লাগবে।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাসন সংকট বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক বাড়িভাড়া ভাতায় বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা সিটি করপোরেশনের জন্য মূল বেতনের সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ, অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও সাভার পৌরসভার জন্য ৩০-৫০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার গ্রেডভেদে ২৫-৪৫ শতাংশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কর্মচারী ও তাদের পরিবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি মেটাতে বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা বাড়ানো হয়েছে। ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত ৩,০০০ টাকা, ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত ৪,০০০ টাকা, ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত ৫,০০০ টাকা এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বে ৬,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির হার গ্রেড-৬ ও তদনিম্ন গ্রেডের জন্য ৫ শতাংশ, গ্রেড-৪ ও ৩-এর জন্য ৩.৫ শতাংশ এবং গ্রেড-২-এর জন্য ২.৭৫ শতাংশ করা হয়েছে।
মোবাইল ভাতার আওতা বাড়িয়ে সব গ্রেডের কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেড-৫ ও এর ঊর্ধ্বের জন্য ৫০০ টাকা এবং গ্রেড-৬ ও এর নিচের জন্য ১৫০ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া যাতায়াত ভাতা ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা এবং ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানদের কল্যাণে সর্বোচ্চ দুজন সন্তানের জন্য ৩,০০০ টাকার নতুন ভাতা প্রবর্তন করা হয়েছে। বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে ভাতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ভাতার ওপর ১০ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া সর্বনিম্ন নিট পেনশন ১০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতায়াত, টিফিন ও ধোলাই ভাতা দুই থেকে তিনগুণ বৃদ্ধি, বয়স অনুযায়ী চিকিৎসা ভাতা এবং ১৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত মোবাইল ভাতা দেওয়ার বিধান রেখে সামরিক ও বেসামরিক খাতের সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির অপেক্ষায় রয়েছে। অর্থ বিভাগ এ নিয়ে কাজ করছে। শিগগির ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে অর্থ বিভাগ।
পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে (পার্বত্য জেলা সদর ও সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা, অন্যান্য পাহাড়ি এলাকায় সর্বোচ্চ ৫২০০ টাকা এবং হাওড়/দ্বীপ/চর এলাকায় মূল বেতনের ২০ শতাংশ হার অপরিবর্তিত রেখে সর্বোচ্চ সীমা ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।