ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি রাখা এবং সম্প্রতি ঘটে যাওয়া আরও দুটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টির জনসংযোগ দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১২(৩) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও পরিবেশ রক্ষার লক্ষ্যে এসব কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রতিটি কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এরপর কর্তৃপক্ষ প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেবে।
ডাকসু সংগ্রহশালায় মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালীন ছাত্রসংঘের বিতর্কিত নেতা আবদুল মালেকের ছবি টানানোর ঘটনা খতিয়ে দেখতে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরকে (প্রশাসন) আহ্বায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে আইন ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং প্রক্টর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এস্টেট ম্যানেজার এই কমিটির সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।
এর পাশাপাশি, ডাকসুর ‘ডিইউ ইভ্যালুয়েশন’ নামের ওয়েবসাইট চালুর প্রশাসনিক ও কারিগরি দিকগুলো তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠিত হয়েছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা), আইন অনুষদের ডিন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন এবং ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক। এই কমিটির সদস্যসচিব হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই কলাভবন-সংলগ্ন ডাকসু ভবনের পশ্চিম পাশে ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘নির্ভীক জুলাই’ নামের দুটি স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়টি তদন্তের জন্য আরও একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির আহ্বায়কও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন)। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন, আইন অনুষদের ডিন ও প্রক্টর। এস্টেট ম্যানেজার এই কমিটিরও সদস্যসচিব হিসেবে কাজ করবেন।