প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:২৮ এএম (19 September 2026, 04:28 AM)
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে এই চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সই হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কয়েক মাস ধরে গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও কোপেনহেগেনের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের পর এই সমঝোতা তৈরি হলো।
এই চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ‘স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ’ লাভ করবে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে না। এর ফলে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অঞ্চলটিকে রক্ষা করতে ‘যা প্রয়োজন তা করার’ পূর্ণ সক্ষমতা পাবে মার্কিন প্রশাসন।
ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেছেন যে, নতুন এই চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো মার্কিন প্রতিপক্ষ দেশ গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে পারবে না। এমনকি সেখানে কোনো ‘সংবেদনশীল বিনিয়োগ’ করার সুযোগও পাবে তারা।
his অন্যদিকে, ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্তাবলি নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেননি। তবে তিনি জানান, এই চুক্তিটি আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে দেশ দুটির যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, চুক্তিটি ডেনমার্কের রাজ্যের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে স্বীকৃতি দেয় এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে বজায় রাখে।
মূলত জাতীয় নিরাপত্তা, কৌশলগত অবস্থান এবং গ্রিনল্যান্ডের মূল্যবান খনিজ সম্পদের গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্বীপটিকে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ দেখিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। এই নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। অবশেষে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সই হতে যাওয়া এই চুক্তিটি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে নতুন এক সমঝোতার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।