জাপানের নাগোয়ায় বর্ণাঢ্য ও জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা উঠল ২০তম এশিয়ান গেমসের। ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই ক্রীড়া মহাযজ্ঞ চলবে আগামী ৪ অক্টোবর পর্যন্ত। পালোমা মিজুহো স্টেডিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলো ও সংগীতের আবহে একে একে মাঠে প্রবেশ করে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ। আফগানিস্তান ও বাহরাইনের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে স্টেডিয়ামের বিশাল হৃদয়াকৃতির মঞ্চে প্রবেশ করে বাংলাদেশ দল।
উদ্বোধনী মার্চপাস্টে সবুজের বুকে লাল বৃত্ত আঁকা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উঁচিয়ে ধরেন শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী ও কারাতেকা হুমায়রা আক্তার অন্তরা। তাদের পেছনে মার্চপাস্টের আলো ঝলমলে মিছিলে পা মেলান ৪৩ জন ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা। গ্যালারিতে উপস্থিত হাজারো দর্শকের করতালি আর ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে মুখরিত হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণ।
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তাদের নিয়ে বড় একটি বহর অংশ নিচ্ছে। ২৬০ সদস্যের এই দলে রয়েছেন ১৮৭ জন ক্রীড়াবিদ, যার মধ্যে পুরুষ ৯০ জন এবং নারী ৯৭ জন। এছাড়া দলের সঙ্গে রয়েছেন ৭৩ জন কোচ ও কর্মকর্তা। বাংলাদেশ দল এবার ২২টি ডিসিপ্লিনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এগুলো হলো—ক্রিকেট, ফুটবল, আর্চারি, অ্যাথলেটিকস, বক্সিং, কাবাডি, হকি, শুটিং, সাঁতার, ভারোত্তোলন, জিমন্যাস্টিকস, কারাতে, ফেন্সিং, সাইক্লিং, ব্যাডমিন্টন, গলফ, সার্ফিং, জুডো, টেবিল টেনিস, বিচ ভলিবল, কুস্তি ও উশু।
তবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পুরো দল অংশ নিতে পারেনি। এশিয়ান গেমসের বেশ কয়েকটি ইভেন্ট আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই শুরু হয়ে গেছে। বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল গত ১৪ সেপ্টেম্বর এবং পুরুষ হকি দল ১৮ সেপ্টেম্বর মাঠে নেমেছে। যেসব ক্রীড়াবিদের পরদিনই প্রতিযোগিতা রয়েছে, তাদের বিশ্রামের জন্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে হিসেব কষে বাছাই করা ৪৩ জন সদস্যই কেবল মার্চপাস্টে অংশ নেন।
১৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের হকি অভিযান শুরু হলেও সেখানে আয়োজকদের একটি বড় ভুল আলোচনার জন্ম দেয়। ম্যাচের আগে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংগীতের পরিবর্তে ভুলবশত উত্তর কোরিয়ার জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। অবশ্য পরবর্তীতে আয়োজকরা দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছে।
‘হারমনিক হার্ট বিট’ বা সুরেলা হৃদস্পন্দন থিমের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি। জাপানের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, নৃত্য, সংগীত ও আধুনিক প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ৪৫টি দেশের বৈচিত্র্য ও ঐক্য ফুটিয়ে তোলা হয়। জাপানের সম্রাট নারুহিতো আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। সবশেষে জাপানের সাবেক এশিয়ান গেমস চ্যাম্পিয়ন শিগেনোবু মুরোফুশি ও তার ছেলে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোজি মুরোফুশি যৌথভাবে গেমসের মূল মশাল প্রজ্বলন করেন।
এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পদক প্রত্যাশা কাবাডিকে ঘিরে। এছাড়া ক্রিকেট, শুটিং ও আর্চারিতেও পদক পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন। বিশেষ করে নারী ক্রিকেট দল আজ সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হচ্ছে। এই ম্যাচে জয় পেলে স্বর্ণের লড়াইয়ে টিকে থাকবে বাংলাদেশ, আর হারলে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য লড়তে হবে তাদের।
উদ্বোধনী রাতের মার্চপাস্ট শেষে মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের স্বপ্ন পূরণে নামছেন বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদরা। মার্চপাস্টে পতাকা বহনকারী শুটার আব্দুল্লাহ হেল বাকী উদ্বোধনী মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবেদকের সঙ্গে সেলফি তোলার সময় জানান তার লক্ষ্যের কথা। পদক জিতলে সেই সেলফি ফেসবুকে শেয়ার করে উদযাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেষ হয় নাগোয়ার সেই স্মরণীয় রাত।