প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬: ১৪
পাবনার চাটমোহর উপজেলার কাটেঙ্গা ভাঙ্গা মসজিদের পাশের তিন মাথার সড়কে কথিত 'ভূত-জ্বীন' নিয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই রহস্যময় পরিস্থিতি ও অস্বাভাবিক ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে এবং গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা কামনায় শনিবার রাতে এক বিশেষ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নারী, পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে প্রায় ৬০০ জন স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ওই তিন রাস্তার মোড়ে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ও রহস্যজনক ঘটনা ঘটছে। গ্রামবাসীদের দাবি, কিছুদিন আগে গভীর রাতে ওই মোড়ের পাশের একটি পুকুরে এক ব্যক্তিকে অজ্ঞাত কোনো বস্তু বা শক্তি ফেলে দেয়। তখন তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। এ ছাড়া ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করার সময় সাপ, বিড়ালসহ বিভিন্ন ধরনের অদ্ভুত জিনিসপত্র হঠাৎ চোখের সামনে ভেসে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা আবার অদৃশ্য হয়ে যায় বলেও দাবি করছেন কেউ কেউ।
এসব ঘটনাকে অলৌকিক বা জিন-ভূতের কাণ্ড বলে মনে করছেন এলাকার অনেক মানুষ, যা নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসী ইসমাইল জানান, আতঙ্ক কাটাতে গ্রামের মুরব্বি ও স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে চাল-ডাল সংগ্রহ করেন। এরপর শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয় খিচুড়ি রান্না ও মিলাদ মাহফিলের প্রস্তুতি। সন্ধ্যার পর প্রায় ৬০০ মানুষ এই আয়োজনে শরিক হন এবং মোনাজাত শেষে তবারক নিয়ে বাড়ি ফেরেন।
ইসমাইল বলেন, "ভূত বলে কিছু না থাকলেও জ্বীন থাকতে পারে। তাই ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী মিলাদ পড়িয়ে এসব বিপদ থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি চাওয়া হয়েছে।"
এদিকে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানারকম হাস্যরসাত্মক ও ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই এ নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা আরও উসকে গেছে। এ প্রসঙ্গে বিশিষ্ট ধর্মীয় আলোচক মুফতি মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন জানান, ইসলামে ভূত বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। তবে বদজ্বীনের আছর বা প্রভাব থাকা অসম্ভব নয়। পবিত্র কোরআনে এ ধরনের বদজ্বীনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন দোয়া ও আমল রয়েছে।