সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা শুরুর একটি প্রস্তাব দিয়েছিল ইরান। তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শুক্রবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই প্রস্তাবের বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আরাগচির পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হলে প্রথম চার থেকে পাঁচ দিনে প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে। এর পাশাপাশি জাতিসংঘের পরমাণু পরিদর্শকদের ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও ছিল।
ইরানের এই শর্তাবলির মধ্যে রয়েছে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল, কিছু জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি। আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহ দেখালে ইরান সাত দিনের মধ্যে প্রণালি খুলে দিতে প্রস্তুত। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইরান চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না।
এদিকে, মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের সংশয় রয়েছে। এছাড়া নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার হামলা শুরুর কথা ট্রাম্প তার সহযোগীদের জানিয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, তার দেশ আলোচনার টেবিল থেকে সরে যায়নি, তবে অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থা কমেছে। তিনি জানান, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু চাপ ও হামলার বিরুদ্ধে তারা আত্মরক্ষা করবে। উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ, যা দিয়ে যুদ্ধের আগে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন কূটনৈতিক মহলের দৃষ্টি ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের দিকে।