রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘সাথি’ পদে যুক্ত ছিলেন রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা, অর্থের বিনিময়ে পদবাণিজ্য, মৌলিক ইবাদত পালনে উদাসীনতা এবং অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের তিনটি পৃথক সাংগঠনিক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। যদিও চিঠিগুলো শিবিরের অফিশিয়াল প্যাডে ছিল না, তবে বর্তমান দায়িত্বশীল একাধিক নেতা এই বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচনেও আম্মারের নেতৃত্বে শিবির ‘ডামি’ প্যানেল ঘোষণা করেছে বলেও আলোচনা ছিল ক্যাম্পাসে।
সংগঠনটির নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন শাখা সভাপতি ও রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আম্মারের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাজশাহী মহানগর ও জেলা কমিটিতে অর্থের বিনিময়ে পদবাণিজ্যের অভিযোগ তোলা হয়। ওই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত মাসিক সেক্রেটারিয়েট সভায় এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে তাঁর ‘সাথি’ পদটি মুলতবি করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শাখা সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদের স্বাক্ষরিত আরেকটি চিঠিতে জানানো হয় যে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাবহির্ভূত কর্মকাণ্ড এবং বারবার সতর্ক করার পরও সংশোধন না হওয়ায় তাঁর সাথি পদ চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়েছে।
সর্বশেষ চলতি বছরের ৩১ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের বর্তমান সভাপতি মুজাহিদ ফয়সালের স্বাক্ষরিত চিঠিতেও আগের সিদ্ধান্তগুলোর পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, আম্মারের কর্মকাণ্ড এবং ক্ষেত্রবিশেষে ফৌজদারি অপরাধে জড়িত হওয়ার কারণে ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সাক্ষাতের সময় সালাম বিনিময় না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র রাকসুর নির্বাচিত দায়িত্বশীলদের সঙ্গে তাঁকে দাপ্তরিক সম্পর্ক রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, আম্মার তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় পড়ার সময় শিবিরের সাথি ছিলেন এবং কোডিং সিস্টেমের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে তাঁর সংশ্লিষ্টতা ছিল। জুলাই আন্দোলনের সময় তাঁকে প্রটোকল ও আশ্রয় দেওয়া হলেও পরবর্তীতে অর্থ কেলেঙ্কারি ও ইসলাম পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে বুধবার চিঠির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সালাহউদ্দিন আম্মার তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। চাঁদাবাজির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের কনসার্টের জন্য উপাচার্যের পরামর্শে অর্থ সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেছেন। তবে ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বা বহিষ্কারের বিষয়টি নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।