চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার সরকারি উদ্যোগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। নিজেদের এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৫ অক্টোবর বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ৫ অক্টোবরের মধ্যে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের বিষয়ে সরকার যদি কোনো সুস্পষ্ট ঘোষণা না দেয়, তবে এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে পরবর্তী বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফজলুল কবির জানান, তারা জানতে পেরেছেন যে গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি এবং এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের এই আন্দোলন সরকারের বিরুদ্ধে নয়। বরং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামো রক্ষায় জনগণের উদ্বেগ তুলে ধরা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। ফজলুল কবির আরও বলেন, দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, রাজস্ব ও শিল্প-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এনসিটি ও সিসিটির মতো কৌশলগত স্থাপনা দীর্ঘমেয়াদী ইজারা দেওয়ার আগে এর সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের বিষয়গুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
সংবাদ সম্মেলনে ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের পাশাপাশি শ্রমিক নেতাদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং আন্দোলনে যুক্ত শ্রমিকদের প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধের দাবিও জানানো হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ বাহার, শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এসকে খোদা তোতন, শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক রবিউল হক শিমুল ও খোরশেদ আলম এবং ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।