ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তার বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার পার্লামেন্ট থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ‘নির্বাচন সদন’ পর্যন্ত মিছিলের আয়োজন করে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’।
মঙ্গলবার সকালে পার্লামেন্টের মকর দ্বার থেকে এই মিছিল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ লেখা ব্যানার এবং এ সময় জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিল শেষে আকাশবাণী ভবনের প্রাঙ্গণে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন বিরোধী দলের নেতারা। রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় মাত্র ৫০ মিটার দূরে থাকলেও তাদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজ সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা, কিন্তু ৩০০ সংসদ সদস্য দেখা করতে চাইলেও কমিশনার ভয় পাচ্ছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের প্রতিনিধিরা যদি কমিশনের সঙ্গে দেখা করতে না পারেন, তবে গণতন্ত্রের অর্থ কী?
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং অন্য দুই কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। দলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের কোনো কর্মকর্তা বৈঠকের আশ্বাস দিলে রাহুল অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করতে পারতেন, তবে তার শর্ত ছিল ৩০০ সংসদ সদস্যকে বৈঠকে অংশ নিতে দিতে হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের দাবি অনুযায়ী, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে আগে আবেদনের মাধ্যমে সময় নিতে হয়, কিন্তু মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদের কাছে এমন কোনো আবেদন পৌঁছায়নি। কমিশন জানায়, বিকেল ৪টার পর সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার সময় দিল্লি পুলিশের ডিসিপি জানান, প্রায় ২৪০ জন সংসদ সদস্য সংসদ ভবন অ্যানেক্সে বৈঠক করতে চান। কমিশন এটিকে নিয়মের বাইরে উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করে এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে স্মারকলিপি গ্রহণের প্রস্তাব দেয়, যা বিরোধী সংসদ সদস্যরা গ্রহণ করেননি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয় এবং রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাসহ অন্যদের আটক করে।
এদিকে কংগ্রেস এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা করেছে। ১০ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশজুড়ে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ প্রচারাভিযান চালানো হবে। এর অংশ হিসেবে ব্লক পর্যায়ে মিছিল, কুশপুতুল পোড়ানো এবং প্রচারপত্র বিতরণ করা হবে। এরপর ২৫ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত বুথ পর্যায়ে জনসভা ও চৌপাল অনুষ্ঠিত হবে। ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ এবং ২৬ নভেম্বর সংবিধান দিবসে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন মিছিল একত্রিত করার পরিকল্পনা করেছে দলটি।