বিশ্ববাজারে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে।
চুক্তির বিস্তারিত উল্লেখ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, প্রাথমিক ধাপে ৩ লাখ টন ডিজেল ছাড়ার পর আগামী নভেম্বর মাসে আরও ৫ লাখ টন ডিজেল বাজারে ছাড়া হবে। এরপর পরবর্তী সময়ে আরও ১০ লাখ টন ডিজেল বিশ্ববাজারে সরবরাহ করবে রাশিয়া। বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এই চুক্তিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ট্রাম্পের এই চুক্তি ও তাঁর প্রতি ট্রাম্পের প্রকাশ্য অনুরাগ নতুন কিছু নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই পুতিন ও রাশিয়ার প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা প্রকাশ্যেই জানিয়ে আসছিলেন ট্রাম্প। তবে তাঁর এই জয় ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে এখনো বিতর্ক চলছে। ট্রাম্পের জয়ে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে তদন্তও চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৪ জুন, নিউইয়র্কের কুইন্সে। ২০১৭ সালের ২০ জানুয়ারি তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। রাজনীতিতে আসার অনেক আগে থেকেই মার্কিন সমাজে একজন শীর্ষস্থানীয় ধনকুবের হিসেবে পরিচিত ছিলেন ট্রাম্প। তাঁর জীবনের দীর্ঘ সময় কেটেছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শোবিজ জগৎ নিয়ে। ২০১৫ সালের ১৫ জুন হঠাৎ করেই তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। শুরুতে তাঁর এই ঘোষণাকে অনেকেই গুরুত্ব দেননি এবং এটি নিয়ে বেশ হাসিঠাট্টাও হয়েছিল। তবে সব জল্পনা-চলতি উড়িয়ে দিয়ে ২০১৬ সালের ৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করে হোয়াইট হাউসে প্রবেশ করেন তিনি।
ব্যক্তিগত জীবনে ট্রাম্প নিউইয়র্কের আবাসন ব্যবসায়ী ফ্রেড ট্রাম্প ও স্কটিশ বংশোদ্ভূত মেরি ট্রাম্প দম্পতির চতুর্থ সন্তান। শৈশবে অত্যন্ত চঞ্চল প্রকৃতির থাকায় তাঁকে নিউইয়র্ক মিলিটারি একাডেমিতে ভর্তি করা হয়েছিল। ১৯৬৮ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ারটন স্কুল থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক শেষ করে বাবার ব্যবসায় যোগ দেন তিনি। বাবার অঢেল সম্পদ থাকলেও একেবারে ছোট পদ থেকে কাজ শুরু করেছিলেন ট্রাম্প। পরবর্তীতে পৈতৃক ব্যবসার ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়ে হোটেল, বহুতল ভবন, গলফ কোর্স ও ক্যাসিনো ব্যবসা গড়ে তোলেন। এ ছাড়া দীর্ঘদিন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতার স্পনসর এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় টিভি রিয়্যালিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেনটিস’ উপস্থাপনা করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।
ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক জীবনে বহুবার চড়াই-উতরাইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প। কয়েকবার নিজেকে দেউলিয়া ঘোষণা করার পাশাপাশি জড়িয়েছেন অসংখ্য আইনি মামলায়। ট্রাম্প মোট তিনটি বিয়ে করেছেন এবং তিনি পাঁচ সন্তানের জনক। তাঁর প্রথম স্ত্রী চেক মডেল ইভানার সঙ্গে ১৯৯২ সালে এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মার্লা ম্যাপলসের সঙ্গে ১৯৯৯ সালে বিচ্ছেদ হয়। ২০০৫ সালে তিনি মডেল মেলানিয়াকে বিয়ে করেন, যিনি বর্তমানে ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ও মন্তব্যের কারণে সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছেন ট্রাম্প। মুসলিম নিষেধাজ্ঞা জারি করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে একের পর এক নির্বাহী আদেশ দিয়ে তিনি যেমন সমালোচিত হয়েছেন, তেমনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে তাঁর বৈরী সম্পর্কও নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম বছরই তাঁর প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিদায় নিয়েছেন। অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নীতি নিয়ে নানা সমালোচনার মধ্যেও ট্রাম্প ইতিমধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করে রেখেছেন।