ভারতে প্রায় ১০০ কোটি ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের উদ্যোগ দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়েছে এবং এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অন্যায্য সুবিধা লাভ করেছে।
বিরোধী দল ও তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে। এই দাবিতে শনিবার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্যমতে, ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু ভোটার তুলনামূলক বেশি বাদ পড়েছেন, যারা সাধারণত হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপিকে সমর্থন করেন না। বিরোধীরা আরও দাবি করছে, সাম্প্রতিক কয়েকটি রাজ্য নির্বাচনের ফলাফলেও এই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রভাব পড়েছে, যেখানে বিজেপি জয়ী হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যের বরাতে বিজেপি জানায়, যাচাইপ্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৩০ লাখ ব্যক্তি আগের ঠিকানা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন এবং প্রায় তিন কোটি ব্যক্তির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। আগামী বছরের শুরুতে ভারতের অন্তত সাতটি রাজ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, যার মধ্যে উত্তর প্রদেশও অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, উত্তর প্রদেশে ভোটার যাচাই শুরুর পর তালিকা থেকে ১৩ শতাংশ নাম বাদ গেছে।
সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস–এর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর এই বিক্ষোভ তীব্রতর হয়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোটার তালিকা সংশোধন ও ডিজিটাল পদ্ধতির বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, যা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশন অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ভিন্নমত থাকাকে স্বাভাবিক বলে দাবি করেছে এবং কোনো রাজনৈতিক দলকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বিজেপি অভিযোগ করেছে যে বিরোধী গোষ্ঠীগুলো বৈধ নির্বাচনপ্রক্রিয়া নিয়ে অযথা প্রশ্ন তুলে দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে।
যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের আবার ভোটার হতে পরিচয় ও যোগ্যতার নতুন প্রমাণ দিতে হচ্ছে, যা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গেও একই ধরনের জটিলতায় লাখ লাখ মানুষ ভোট দিতে পারেননি বলে দাবি করেছেন বিরোধীরা। তাদের আশঙ্কা, এই পদ্ধতিকে ভবিষ্যতের নির্বাচনে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে।