সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পরিচয় থেকে প্রেমের সম্পর্ক, আর সেই ভালোবাসার টানে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছেন চীনা যুবক ওয়াং এরলিং। মাদারীপুর সদর উপজেলার চাপাতলী গ্রামের প্রেমিকা হাফিজা আক্তারের বাড়িতে এসে উঠেছেন তিনি। দূরদেশ থেকে তরুণের আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে এবং তাকে একনজর দেখতে শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন।
জানা গেছে, চীনের হেনান প্রদেশের বাসিন্দা ওয়াং এরলিং পেশায় একটি ওয়ার্কশপের কর্মী। প্রায় চার মাস আগে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ওয়ার্ল্ড টক’ (World Talk) অ্যাপের মাধ্যমে মাদারীপুরের চাপাতলী গ্রামের কৃষক মোস্তফা বেপারীর মেয়ে হাফিজা আক্তারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। হাফিজা স্থানীয় একটি কলেজের শিক্ষার্থী এবং ছয় ভাইবোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। অ্যাপে পরিচয়ের পর দুজনের মধ্যে নিয়মিত চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং তা একপর্যায়ে প্রেমে রূপ নেয়।
সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ওয়াং এরলিং নিজ পরিবারের অনুমতি নিয়ে বাংলাদেশে আসার সিদ্ধান্ত নেন। হাফিজা আক্তার জানান, ছবি দেখে ওয়াং এরলিংকে তার ভালো লাগে এবং পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরিবারের সম্মতিতেই তারা দুজন বিয়ে করতে চান। ওয়াং এরলিং তাকে চীনে নিয়ে যেতে চেয়েছেন এবং তিনিও সেখানে যেতে ইচ্ছুক। অন্যদিকে চীনা যুবক ওয়াং এরলিং জানান, প্রয়োজনে মুসলিম হতেও তার কোনো আপত্তি নেই। তিনি পরিবার থেকে অনুমতি নিয়েই এসেছেন এবং বিয়ে করে স্ত্রীকে সঙ্গে করেই নিজ দেশে ফিরতে চান। হাফিজার বাবা মোস্তফা বেপারীও মেয়ের আনন্দের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, যেখানে মেয়ে সুখে থাকবে সেখানেই বিয়ে দেবেন এবং যা হবে সবকিছু সামাজিকতা রক্ষা করেই সম্পাদন করা হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি যুবক গ্রামে আসার খবর ছড়ানোর পরপরই মাদারীপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা হাফিজার বাড়িতে যান। মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে গিয়ে যুবকের পাসপোর্ট ও সাথে আনা কাগজপত্রের তথ্য যাচাই-বাছাই করেছে। সব তথ্য সঠিক থাকলে ওই চীনা যুবক কলেজপড়ুয়া মেয়েটিকে বিয়ে করবেন কি না, তা সম্পূর্ণ তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তের বিষয়।