ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ব্যাপক সহিংসতা ও দাঙ্গার রূপ নিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ, দোকানপাটে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতিতে সহিংসতায় জড়িতদের কঠোর বিচারের মুখোমুখি করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যারা সম্পদ ধ্বংস করেছে, লুটপাট চালিয়েছে এবং প্রজাতন্ত্রকে উৎখাতের অপচেষ্টা করেছে, তাদের অবশ্যই জবাবদিহির আওতায় আসতে হবে।
রোববার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, সম্পদ ধ্বংসকারীদের এর মূল্য দিতে হবে এবং লুটপাটের ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে। সহিংসতার জন্য তিনি মূলত ‘চরম বামপন্থি গোষ্ঠীর বিদ্রোহী উপাদান’ এবং তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়া অপরাধীদের দায়ী করেন। তিনি আরও বলেন, সহিংসতার এসব ঘটনার কোনো যৌক্তিকতা নেই এবং এই চিত্র ফরাসিদের মধ্যে ক্ষোভ ও লজ্জার জন্ম দিয়েছে। তবে তিনি সাধারণ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সহিংসতায় জড়িতদের গুলিয়ে না ফেলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অনেকে বৈধ দাবি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন, তাদের সঙ্গে ভাঙচুরকারীদের এক করে দেখা উচিত নয়।
জনগণের অভিযোগ ও দাবি শোনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, এ সপ্তাহে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।
সহিংসতার ভয়াবহতায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, নঁত শহরে তৃতীয় পক্ষের একটি গাড়ির ধাক্কায় ২২ বছর বয়সি এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশ দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে। এর আগে শনিবার লিমোজ শহরে ১৪৩ বছরের পুরোনো টাউন হলে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং মার্সেই ও লিয়োঁর মতো শহরেও সরকারি ও বাণিজ্যিক স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। ক্যারেফোরের প্রধান নির্বাহী আলেক্সান্দ্র বোমপার জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রায় ১,৫০০টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু প্যারিস, লিয়োঁ ও মার্সেইয়ের মেয়রদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতে মেয়ররা সরকারের কাছে আরও সহায়তা চেয়েছেন। এদিকে প্যারিস পুলিশ প্রিফেকচার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দাঙ্গাকারী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তারা কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং পিছু হটবে না।
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ১৭আপডেট : ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮: ২২
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের সংঘাতের ঘটনায় নঁত শহরে ২২ বছর বয়সি এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। প্যারিস থেকে প্রায় ২৫০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত শহরটিতে ওই পুলিশ সদস্য ‘তৃতীয় পক্ষের একটি গাড়ির ধাক্কায়’ প্রাণ হারান।