ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ রাউন্ড রবিন ম্যাচে আফগানিস্তানের কাছে ৭ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৬০ রানের পুঁজি গড়ে টাইগাররা। জবাবে ৮৭ বল হাতে রেখেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানরা। ১৬০ রানের স্বল্প লক্ষ্য নিয়ে ফাইনালের স্বপ্ন দেখা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বাংলাদেশ।
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দলের ৬ রানের মাথায় দুটি উইকেট তুলে নেন আফগানিস্তানের পেসার ইয়ামিন আহমাদজাই। তানজিদ হাসান ১ রান করে আউট হওয়ার পরের বলেই শূন্য রানে বোল্ড হন সৌম্য সরকার। আহমাদজাইয়ের হ্যাটট্রিক বল ঠেকিয়ে দিলেও সপ্তম ওভারে আজমতউল্লাহ ওমারজাইয়ের পরপর দুই বলে নাজমুল হোসেন শান্ত (১৫) এবং অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় (০) সাজঘরে ফিরলে মাত্র ২৮ রানেই ৪ উইকেট হারায় দল।
প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে পঞ্চম উইকেটে পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান ৯৩ রানের জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। ৮২ বলে ৪১ রান করে মোহাম্মদ নবীর বলে সাইফ আউট হলে সেই জুটি ভাঙে। এই ইনিংসে রশিদ খানকে মারা সাইফের ছক্কাটি ছিল তিন বছরে রশিদের বিপক্ষে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম ছক্কা। অন্যপ্রান্তে ৯৬ বলে ৭০ রান করে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নেন ইমন। তবে ইমন এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেওয়ার পর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। মাত্র ৩৯ রানের ব্যবধানে শেষ ৬টি উইকেটের পতন ঘটলে ১৬০ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। অভিষেকে আলিস আল ইসলাম ১০ বল খেলে শূন্য রানে আউট হন। আফগানদের পক্ষে রশিদ খান ৩১ রান দিয়ে ৪টি উইকেট নেন।
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছু ধাক্কা খেয়েছিল আফগানিস্তান। পেসার তাসকিন আহমেদ দ্রুতই রহমানউল্লাহ গুরবাজ (৬) ও সেদিকউল্লাহ আতালকে (৪) ফিরিয়ে দেন। এরপর দলীয় ৯৫ রানের মাথায় ওপেনার ইব্রাহিম জাদরানকে আউট করেন মোস্তাফিজুর রহমান। তবে পরবর্তীতে রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি দলকে। রহমত শাহ ৯০ বলে অপরাজিত ৬৭ এবং অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি অপরাজিত ৩৬ রান করে ৬৬ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জয় এনে দেন।