হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি নিয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দরকষাকষি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। দুই বছরে ২০ দফার বেশি বৈঠক করেও সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) আবু সাঈদ মেহবুব খান জানিয়েছেন, জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা শেষ হলেও নতুন কিছু শর্ত যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে অবহিত করা হয়েছে। সরকারের সবুজ সংকেত পেলেই চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।
চুক্তির ক্ষেত্রে জাপানি কনসোর্টিয়ামের দেওয়া চারটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়দায়িত্ব ও ঝুঁকি বণ্টন, রাজস্ব ভাগাভাগি, আইনি সুরক্ষা এবং প্রকল্পের ত্রুটি সংশোধনের দায়বদ্ধতার সময়সীমা বা ডিফেক্ট লায়াবিলিটি পিরিয়ড (ডিএলপি)। গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে কনসোর্টিয়াম চাইছে বিমানের ওপর দায়দায়িত্ব থাকুক, কিন্তু আর্থিক সুবিধা ও ক্ষয়ক্ষতির দায় বণ্টনের বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত। এছাড়া রাজস্ব ভাগাভাগির ক্ষেত্রে আগে ২৭ শতাংশ দেওয়ার কথা থাকলেও অপারেশনাল প্রস্তুতির প্রথম আট মাসে সাড়ে ১৩ শতাংশ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাপানি পক্ষ।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অগ্রিম অর্থ পরিশোধ, আইনি সুরক্ষা, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের অর্থ পরিশোধ এবং যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দায়দায়িত্বের বিষয়েও নতুন শর্ত তোলা হচ্ছে। আগে যন্ত্রাংশের দায়দায়িত্বের মেয়াদ ৬ মাসের কথা থাকলেও এখন ১২ মাস পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) চুক্তি করবে বেবিচক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিকল্প অপারেটর না রাখায় বাংলাদেশ দরকষাকষিতে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ ও অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা যাচাই না করে তাড়াহুড়ায় চুক্তি করা ঠিক হবে না। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে তৃতীয় টার্মিনালের পরীক্ষামূলক উদ্বোধনের পরিকল্পনার সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি সরাসরি সম্পর্কিত নয়। উদ্বোধনী আয়োজনের প্রস্তুতির জন্য পৃথক একটি কমিটি কাজ করছে। এদিকে প্রথম দিন অন্তত ১০টি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় বেবিচক।