মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিজেদের তৈরি স্পিনের চক্করে পড়ে সফরকারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। চার দিনের মাথায় ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত হারের দুটি কারণ স্পষ্ট করেছেন—বাংলাদেশের স্পিনাররা ভালো বোলিং করতে পারেননি এবং ক্যারিবীয় স্পিন আক্রমণের সামনে স্বাগতিক ব্যাটাররা ঘুরে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছেন। ঘরোয়া মাঠের সুবিধা নিতে চাওয়া স্বাভাবিক হলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি স্বাগতিকেরা।
সিরিজ সম্প্রচারকদের সংগৃহীত ডেটা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পুরো টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনাররা উইকেট থেকে গড়ে ৩.৫ ডিগ্রি টার্ন আদায় করে নিয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের স্পিনাররা গড়ে পেয়েছেন ৩.০ ডিগ্রি টার্ন। ক্যারিবীয় স্পিনারদের বল কখনো কখনো ৩.৭ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরেছে, যেখানে বাংলাদেশের স্পিনারদের বাঁক ৩.৫ ডিগ্রিতেও পৌঁছায়নি। এ ছাড়া ক্যারিবীয় স্পিন ছিল ধারাবাহিক ও হঠাৎ টার্ন করা, আর বাংলাদেশি স্পিনারদের বল ঘুরেছে তুলনামূলক আস্তে ও নিচু হয়ে।
চতুর্থ দিনে এসে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪২ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ক্যারিবীয় দুই স্পিনারই তুলে নেন বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ৯টি উইকেট। অফ স্পিনার রোস্টন চেজ ৫টি এবং প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট পাওয়া বাঁহাতি স্পিনার জোমেল ওয়ারিক্যান নেন ৪টি উইকেট। আগের দিনের ৬ উইকেটে ৭৯ রানের সঙ্গে শেষ দিনে মাত্র ৬৩ রান যোগ করতে সক্ষম হয় স্বাগতিকেরা। এই টেস্টে বাংলাদেশের পড়া ২০টি উইকেটের ১৬টিই (৮০ শতাংশ) নিয়েছেন সফরকারী স্পিনাররা। বিপরীতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পড়া ১২ উইকেটের মধ্যে বাংলাদেশের স্পিনাররা পেয়েছেন ৮টি উইকেট, যা মোট উইকেটের ৬০ শতাংশ।
বাংলাদেশ দলকে দ্বিতীয় ইনিংসে কিছুটা লড়াই করার মতো রান এনে দেন নাঈম হাসান। বল হাতে ৪ উইকেট নেওয়ার পর আট নম্বরে নেমে প্রথম টেস্ট ফিফটি করা নাঈম শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হওয়ার আগে দলকে লিড এনে দিতে মূল ভূমিকা রাখেন। ক্যাচ মিসের কারণে দুইবার জীবন পান নাঈম এবং একবার জীবন পান হাসান মাহমুদ। কিন্তু তারপরও ১৪২ রানের বেশি এগোতে পারেনি বাংলাদেশ দল, ফলে সফরকারীদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭০ রানের স্বল্প লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে টেস্টের একদিনেরও বেশি সময় বাকি থাকতেই ওয়ানডে মেজাজে ম্যাচটি শেষ করে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। লক্ষ্য স্পর্শ করতে সফরকারীদের লেগেছে মাত্র ৩৫.১ ওভার। উদ্বোধনী জুটিতে ব্রেন্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল যোগ করেন ১১২ রান। ক্যাম্পবেলকে (স্টাম্প উপড়ে ফেলা) আউট করেন শরীফুল ইসলাম। এরপর দলীয় ১২০ রানে তেজনারায়ণ চন্দরপল আউট হলেও আর কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেননি কিং ও কেবন হজ। ব্রেন্ডন কিং অপরাজিত ৮১ রান এবং কেবন হজ অপরাজিত ৩১ রান করে অবিচ্ছিন্ন ৫০ রানের জুটিতে দলকে জয় এনে দেন।
প্রথম দিন বাদ দিলে পুরো ম্যাচে কখনই মনে হয়নি মিরপুর টেস্ট বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে আছে। প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা বড় লিড না পেলেও বাংলাদেশকে পিছেই রেখেছিল। পুরো চার দিন ধরে আলোকের স্বল্পতা, বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে মোট ৯ বার খেলা বন্ধ করতে হয়। প্রথম তিন দিনে নির্ধারিত ২৭০ ওভারের জায়গায় খেলা সম্ভব হয়েছিল মাত্র ৬০ ওভারের মতো। শেষ দিনেও দফায় দফায় বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতায় খেলা ব্যাহত হলেও দ্রুত জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এক দিনের বেশি সময় হাতে রেখে টেস্টটা জিততে তাদের লেগেছে মাত্র ৩৫.১ ওভার।.গতকাল লাঞ্চের আগেই শেষ হয়ে গেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের বাকিটা, লিড দাঁড়ায় মাত্র ১৬৯ রানের।