ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা গ্রামে রাশিয়ার বিমান হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) চালানো এই হামলায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন, যাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে উদ্ধারকারী দলের দুই সদস্য এবং চারজন পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। আহতদের মধ্যেও দুইজন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন বলে জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার রাতের ভিডিও ভাষণে এই হামলাকে 'জঘন্য সন্ত্রাসী হামলা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, রুশ বাহিনী প্রথমে গ্রামের একটি স্কুলে বোমা নিক্ষেপ করে। স্কুলটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং প্রতি সোমবার সেখানে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হতো। যুদ্ধের সম্মুখসারির কাছাকাছি হওয়ায় স্কুলটিতে কোনো ক্লাস চলছিল না।
জেলেনস্কি আরও বলেন, মানুষ যখন মানবিক সহায়তা নিতে জড়ো হতে শুরু করেন, তখনই রাশিয়া প্রথম দফায় বোমা ফেলে। এরপর উদ্ধারকারীদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দফায় বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, মানবিক সহায়তার জন্য বাসিন্দাদের একত্র হওয়ার বিষয়টি রুশ বাহিনীর অজানা থাকার কথা নয়। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া মানবিক উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরিবর্তে মানুষ হত্যা অব্যাহত রেখেছে।
জাপোরিঝিয়া সিটি কাউন্সিলের সচিব রেজিনা খারচেঙ্কো জানিয়েছেন, এই হামলায় আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারে পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। হামলার পর ঘটনাস্থলের বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ওঠা ধ্বংসস্তূপের চিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা এই হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার অংশগ্রহণের বিরোধিতা করে দেশটির ওপর আরও কঠোর শাস্তিমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার অপরাধকে কোনোভাবেই আন্তর্জাতিক বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। এর আগে খেরসন অঞ্চলের ওলেশকি শহরে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাশিয়া তা অব্যাহত রাখতে দেয়নি বলে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি উল্লেখ করেন।