পোশাকশ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে টঙ্গীতে ১০০ শয্যার একটি বিশেষায়িত শ্রমজীবী হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী জানান, গাজীপুরে পোশাকশ্রমিক আন্দোলনে নিহত শ্রমিকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে এক লাখ টাকা অর্থসহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত সব পক্ষের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এটি প্রমাণ করে যে শিল্প ও দেশের স্বার্থে সবাই আন্তরিক। তিনি শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারখানা বাঁচলে কর্মসংস্থান ও আয় বাড়বে এবং মজুরি বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিকদের কোনো প্রস্তাব থাকলে তা লিখিতভাবে মজুরি বোর্ডে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার কোনো প্ররোচনায় কান দেওয়া যাবে না। তবে আন্দোলনে যদি কোনো নিরীহ শ্রমিক গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন, তাদের মুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মজুরি কাঠামোর অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রী জানান, রোববারের মধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বিকেলেই এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। ইতিহাসের সবচেয়ে কম সময়ে বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব তৈরি করে জানুয়ারির মধ্যে তা কার্যকর করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, পোশাক খাতের প্রতি সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। তিনি মজুরি বোর্ডের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে আশা প্রকাশ করেন যে, বোর্ড শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করবে। বৈঠকে শ্রমিক প্রতিনিধিরা দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে শিল্পাঞ্চলে আইন করে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলনে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রহমান তরফদারসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শ্রমিক ও মালিকপক্ষের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।