দেশে সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি খাতে সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে নতুন তিনটি সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর এই পরিকল্পনার আওতায় ভোলায় দৈনিক ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার ইউরিয়া সার কারখানা, চট্টগ্রামে বছরে ৪ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতার টিএসপি কারখানা এবং নরসিংদীর পলাশে বছরে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ক্ষমতার ইউরিয়া ফরমালডিহাইড-৮৫ (ইউএফ-৮৫) কারখানা স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির বর্তমানে পাঁচটি ইউরিয়া ও দুটি নন-ইউরিয়া সার কারখানা রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন, যার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন। একই অর্থবছরে দেশে টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদা ছিল যথাক্রমে সাত লাখ ৫০ হাজার এবং ১৪ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে বিসিআইসির কারখানাগুলোতে উৎপাদন হয়েছে যথাক্রমে ৬৮ হাজার ২৫৯ ও ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন সার, যা মোট চাহিদার ৯.১০ শতাংশ ও ৫.৫৩ শতাংশ। অর্থাৎ চাহিদার অধিকাংশই পূরণ করা হচ্ছে আমদানির মাধ্যমে। বিশাল এ চাহিদা মেটাতে সরকার প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়া সারে ২৩ হাজার টাকা, টিএসপি সারে ৪৯ হাজার ১৭০ টাকা এবং ডিএপি সারে ৯৮ হাজার ৮৪০ টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এই ভর্তুকির চাপ কমাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন কারখানাগুলো নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভোলায় প্রস্তাবিত ইউরিয়া সার কারখানার জন্য দৈনিক ৪৫ থেকে ৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংস্থান নিশ্চিত করাকে প্রকল্পটির প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে বিসিআইসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ ও কারিগরি প্রস্তুতির ওপর প্রকল্পটির সাফল্য নির্ভর করছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গায় টিএসপিসিএল কমপ্লেক্সের অব্যবহৃত জায়গায় নতুন টিএসপি কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা বর্তমান প্ল্যান্টের কাঁচামাল সংকট ও উৎপাদন সমস্যার সমাধানে সহায়ক হবে।
নরসিংদীর পলাশে ঘোড়াশাল-পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির অব্যবহৃত জমিতে ইউএফ-৮৫ কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে। বিসিআইসি চেয়ারম্যানের মতে, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে নির্মাণ ও উৎপাদন পর্যায়ে প্রকৌশলী, প্রযুক্তিবিদ এবং দক্ষ শ্রমিকসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।