বর্ষার টানা বৃষ্টি আর ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি হু হু করে বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ পয়েন্টে পানি ইতিমধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বর্তমানে সিলেটের কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে পানি বিপদসীমার চেয়ে ২ সেন্টিমিটার উঁচুতে অবস্থান করছে। এছাড়া নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে নেত্রকোনায় সোমেশ্বরীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় স্থানীয়দের মাঝে সামান্য স্বস্তি মিলেছে। বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৫টি পয়েন্টেই পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সুরমা ও কুশিয়ারার অববাহিকাভুক্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জ এবং আত্রাই অববাহিকার নওগাঁ জেলায় বন্যার ঝুঁকি তীব্র হচ্ছে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের নদীপাড়ের নিম্নাঞ্চলগুলোতে নদীর পানি সতর্কসীমায় পৌঁছে গেছে। এই পরিস্থিতি সৃষ্টির পেছনে ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ২৪ ঘণ্টায় হওয়া ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত এবং দেশের ভেতরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হওয়া ৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত বড় ভূমিকা রেখেছে। উজান ও দেশের ভেতরের এই বৃষ্টির কারণে চিলমারী, সারিয়াকান্দি ও ডালিয়ার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও তিস্তা নদীর পানিও বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। নদীপাড়ের মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বৃষ্টির এই প্রভাব পড়েছে রাজধানী ঢাকাতেও। বুধবার সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ মেঘে ঢাকা ছিল এবং দুপুরের পর মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। আবহাওয়া দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, দুপুর ৩টা পর্যন্ত ঢাকায় ২১ মিলিমিটার এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট ৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে। গণপরিবহন সংকট ও বাড়তি ভাড়ার কারণে ঘরে ফেরা সাধারণ মানুষকে পোহাতে হয়েছে চরম ভোগান্তি। ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও পথচারীদের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক ও এ কে এম নাজমুল হকের সই করা এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে আরও দুই দিন অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।