এবারের ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের পথে তিনটি স্বাগতিক দেশ, ১৬টি স্টেডিয়াম, ৪৮টি দল এবং ১০৪টি ম্যাচের মতো জটিল চ্যালেঞ্জ থাকলেও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিতর্কের সম্ভাবনা থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দর্শকদের মনোযোগ ছিল মাঠের খেলার ওপরই। এর অন্যতম বড় প্রমাণ পাওয়া গেছে রবিবারের ফাইনালে, যেখানে স্পেন ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারানোর ম্যাচে রেকর্ডসংখ্যক দর্শক টেলিভিশনের সামনে জড়ো হয়েছিলেন।
সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান ফক্সের তথ্য অনুযায়ী, কেবল যুক্তরাষ্ট্রেই ফাইনাল ম্যাচটি ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক দেখেছেন, যার দর্শকসংখ্যা এক পর্যায়ে ৫ কোটি ১৬ লাখ ৮৫ হাজারে পৌঁছেছিল। নিলসেন মিডিয়া রিসার্চের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত সবচেয়ে বেশি দর্শক দেখা ফুটবল ম্যাচের রেকর্ড গড়েছে। এর পাশাপাশি স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দোর হিসেবে আরও ২ কোটি ২৬ লাখ দর্শক ম্যাচটি দেখেছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দুই ভাষার সম্প্রচার মিলিয়ে ফাইনালটি উপভোগ করেছেন ৬ কোটিরও বেশি মানুষ।
টুর্নামেন্টজুড়ে মাঠের খেলায় লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ডের মতো তারকারা উত্তর আমেরিকার দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। যুক্তরাষ্ট্র টুর্নামেন্ট থেকে শেষ ষোলোতে বিদায় নিলেও দেশটিতে দর্শকদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। ফক্সের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ১০৪টি ম্যাচ সম্প্রচার করা হয়েছে, যেখানে প্রতি ম্যাচে গড় দর্শকসংখ্যা ছিল ৭৭ লাখ ৩৭ হাজার। ২০২২ সালে এই গড় ছিল ৩৫ লাখ ৮৮ হাজার এবং ২০১৮ সালে ছিল ২৭ লাখ ৭০ হাজার।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো স্বাগতিক তিন দেশের আয়োজনের প্রশংসা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, স্টেডিয়ামগুলোতে রেকর্ড প্রায় ৭০ লাখ দর্শক উপস্থিত ছিলেন। যদিও প্রকৃত দর্শকসংখ্যা নির্ধারণ করা কিছুটা জটিল, তবে ধারণা করা হচ্ছে বিশ্বের ৬০০ কোটিরও বেশি মানুষ ঘরে বসে এই টুর্নামেন্ট উপভোগ করেছেন।
আরও নির্ভুল হিসাব পেতে ২০২৫ সালে নিলসেন তাদের ঘরের বাইরের দর্শক পরিমাপের পদ্ধতিও সম্প্রসারণ করে।শুরুর দিকে কিছু ছোটখাটো সমস্যা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর স্টেডিয়ামগুলোতে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই দর্শক উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।ইনফান্তিনো বলেন, ‘স্টেডিয়ামগুলোতে আমরা রেকর্ডসংখ্যক দর্শক পেয়েছি, প্রায় ৭০ লাখ।