১৯৯৯ সালের ২৫শে নভেম্বর রাজধানীর মতিঝিল থানার উত্তর শাহজাহানপুরে চলন্ত ট্রাকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ট্রাকচালক নওশাদ নসু নিহত হন। ওই ঘটনায় মতিঝিল থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে বিস্ফোরক আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ মোট ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছর তদন্ত শেষে ২০০২ সালে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। সেই অভিযোগপত্রে মির্জা আব্বাসসহ ২০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হলেও বাকি আটজনের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রাখা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আটজনের বিচার এখনো শেষ হয়নি।
মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়া এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়েই স্থবির হয়ে আছে। অভিযোগপত্রে ১৭ জন সাক্ষীর নাম থাকলেও দীর্ঘ এই সময়ে তাদের কেউই আদালতে এসে সাক্ষ্য দেননি। সাক্ষীদের আদালতে হাজির করার জন্য বারবার সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এমনকি জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হলেও কোনো লাভ হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, মামলাটিতে অন্তত ২৬০ বার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি পিছিয়ে দেয়া হয়েছে।
দীর্ঘসূত্রতার এই চিত্র কেবল সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০১৮ সালে মামলার বাদী তৎকালীন এসআই নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালত থেকে জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়, কিন্তু তাকেও আদালতে হাজির করা সম্ভব হয়নি। সরকারি সাক্ষীদের তালিকায় থাকা পুলিশ কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেট ও চিকিৎসকদেরও আদালতে আনা যায়নি। বছরের পর বছর ধরে আদালত বদল হলেও মামলার অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটেনি।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বারবার মামলাটি খারিজের আবেদন জানালেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি, বরং নতুন করে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। আইনজীবী শাকিল আহমেদ রিপন এটিকে বিচারবিভাগের অন্যতম অমানবিক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো এই মামলায় আসামিরা বছরের পর বছর বিনাবিচারে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আরেক আইনজীবী জয়নাল আবেদীন মিসবাহ জানান, এই মামলার বিষয়ে তারা উচ্চ আদালতের নজরে আনার পরিকল্পনা করছেন, কারণ মামলার বাদী বা সাক্ষীদের কাউকেই আদালতে হাজির করতে না পারায় এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।