ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে বিশদ প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী গণমাধ্যম। এসব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ থেকে শুরু করে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং নতুন সরকারের নানা চ্যালেঞ্জের বিষয় উঠে এসেছে।
মার্কিন ভূ-রাজনৈতিক সাময়িকী 'দি ডিপ্লোম্যাট' তাদের বিশেষ বিশ্লেষণে বাংলাদেশের জুলাই বিপ্লবকে নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তারা বলছে, একনায়কতন্ত্র থেকে বেরিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু করা এই দেশটির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা। একই সঙ্গে বিপ্লব-পরবর্তী রাজনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে বলে মনে করে সাময়িকীটি। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি তাদের প্রতিবেদনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ এবং শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগের শেষ ৭২ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরেছে। এর পাশাপাশি আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়টিও তাদের প্রতিবেদনে স্থান পেয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ভারতে অবস্থান করে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনার বিষয়টি তারা সামনে এনেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাংলাদেশ সরকারের নজরদারি এবং ৫ আগস্ট ভারতের ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তার ভার্চুয়াল অডিও বক্তব্যকে ঘিরে তৈরি হওয়া পরিস্থিতিও তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
তুরস্কের সংবাদ সংস্থা আনাদোলুও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে জানিয়েছে, নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবের আয়োজিত ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য দেওয়ার পরিকল্পনা ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করেছে। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা তাদের বিশ্লেষণে উল্লেখ করেছে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দুই বছর পর ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত এবং বাংলাদেশে ফেরার বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।