আরব বিশ্বে নতুন এক নজির স্থাপন করে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুরোপুরি বাতিল করেছে লেবানন। মঙ্গলবার দেশটির ১২৮ সদস্যের সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে এই ঐতিহাসিক আইনটি পাস হয়। নতুন আইন অনুযায়ী, এখন থেকে অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং কঠোর শ্রমের শাস্তি ভোগ করতে হবে। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক এই আইনের বিরোধিতা করেছে।
বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এই আইন পাসকে লেবাননের বিচারব্যবস্থার জন্য একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। আইনটির প্রস্তাব প্রথম সংসদে তোলা হয়েছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে, যা উত্থাপন করেছিলেন আইনপ্রণেতা আবদুর রহমান আল-বিজরি। সাতজন সংসদ সদস্যের সমর্থনের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে কিছু সংশোধনী আনা হয়। সংশোধিত আইন অনুযায়ী, আইন কার্যকর হওয়ার আগের অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং আইন কার্যকর হওয়ার পরের গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে কঠোর শ্রমসহ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হবে।
লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি দীর্ঘদিনের। দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছিল। ২০০৪ সাল থেকে লেবাননে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ থাকলেও আইনি কাঠামোতে এই শাস্তির সুযোগ রয়ে গিয়েছিল। নতুন আইন পাসের ফলে আদালত এখন থেকে আর কাউকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সুযোগ পাবে না।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনও গত জুন মাসে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি কঠোর শ্রমের শাস্তি বাতিলের আহ্বান জানিয়েছিল। কমিশনের মতে, অপরাধের শাস্তি এমন হওয়া উচিত যা মানুষের মর্যাদাকে সম্মান করে এবং সংশোধনের সুযোগ তৈরি করে। বিভাজিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও এই আইন পাস হওয়াকে বিচারব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে লেবানন শুধু একটি আইনি পরিবর্তন আনেনি, বরং মানবাধিকার ও শাস্তি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করল, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য আরব দেশগুলোকেও উৎসাহিত করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।