২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে ইয়েমেন। দেশটির বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে সামরিক তৎপরতা শুরুর প্রেক্ষাপটে এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের ইয়েমেনবিষয়ক বিশেষ দূত হান্স গ্রুন্ডবার্গ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে শুক্রবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে হান্স গ্রুন্ডবার্গ বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক তৎপরতা অনেক বেড়েছে। এসব হামলা ও সংঘর্ষে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি বেসামরিক লোকজনও হতাহত হয়েছেন। ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা মারিব, হাজরামাউত, আল-মাখা (মোচা) সহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনীর সঙ্গে নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়েছে, যা দেশটির ভঙ্গুর পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
এরই মধ্যে গত বুধবার ইয়েমেন সরকার জানায়, কয়েকটি গভর্নরেটে হুথি বাহিনীকে লক্ষ্য করে কামান ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। একই দিন ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের (পিএলসি) প্রধান হুথিদের প্রতিটি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘ব্যাপক জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এমন পরিস্থিতিতে সব পক্ষকে দ্রুত উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন গ্রুন্ডবার্গ। তিনি একটি শক্তিশালী ও টেকসই যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার জন্য পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের এই দূত সতর্ক করে বলেন, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের ওপর হুথিদের নতুন করে হামলা ইয়েমেনকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারে। এতে ইয়েমেনে আবারও বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মূলত ২০২৩ সালে বৃহত্তর অঞ্চলে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার পর ইয়েমেনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি স্থায়ী চুক্তির দিকে যে অগ্রগতি হচ্ছিল, তা থমকে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় আবারও সামরিক তৎপরতা বাড়ায় সেই স্থবির পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।
ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালে, যখন হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরের বছর ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি সামরিক জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। এতে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয় এবং দেশটি দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ২০২২ সালে হুথি ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এরপর থেকে যুদ্ধবিরতিটি মূলত কার্যকর থাকায় কয়েক বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাত কিছুটা থেমে ছিল। তবে স্থায়ী শান্তির পথ এখনো তৈরি হয়নি। জাতিসংঘের আশঙ্কা, উত্তেজনা দ্রুত কমানো না গেলে ইয়েমেন আবারও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের দিকে চলে যেতে পারে।