অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের কন্যা আরাধ্যা বচ্চনের ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ইউটিউবে ভুয়া ভিডিও ছড়ানোর মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন তুলেছে দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত জানতে চেয়েছে, কোনো পরিবারের অর্জিত সুনাম বা খ্যাতি কি প্রজন্মের পর প্রজন্ম উত্তরাধিকারসূত্রে বহমান থাকে? যদি থাকে, তবে তা কতদূর পর্যন্ত কার্যকর হতে পারে?
বৃহস্পতিবার মামলার শুনানির সময় বিচারপতি অনুপ জে ভাম্ভানি মন্তব্য করেন, কোনো পণ্য বা সেবার ট্রেডমার্কের মূল্য ও সুনামের সঙ্গে একজন ব্যক্তির সুনামের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো পারিবারিক নামের সঙ্গে যদি ট্রেডমার্কের মতো সুনাম জড়িয়ে থাকে, তবে সেই সুনাম পরবর্তী প্রজন্মের কতদূর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এছাড়া পরিবারের কোনো এক সদস্যের সাফল্য বা অর্জনের কারণে তৈরি হওয়া পারিবারিক খ্যাতি পরবর্তী প্রজন্মের সদস্যদের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে একাধিক ইউটিউব চ্যানেলের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন আরাধ্যা বচ্চন। বিভিন্ন ভিডিওতে তাকে গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি এবং এমনকি একটি ভিডিওতে তার মৃত্যুর মিথ্যা দাবিও করা হয়েছিল। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। আরাধ্যার পক্ষে তার বাবা অভিষেক বচ্চন আদালতে এই আবেদনটি করেছিলেন।
শুনানিতে আরাধ্যার পক্ষে আইনজীবী প্রবীণ আনন্দ যুক্তি তুলে ধরে বলেন, বচ্চন পরিবারের ছবি ব্যবহার করে মিথ্যা খবর ছড়ানো হচ্ছে এবং এসব প্রতিবেদনের সঙ্গে বচ্চন নামটি জড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই এই পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি।
এর আগে, ২০২৩ সালের ২০ এপ্রিল দিল্লি হাইকোর্ট একাধিক ইউটিউব চ্যানেলকে আরাধ্যার স্বাস্থ্য নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সে সময় আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিলেন যে, একটি শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো অত্যন্ত গুরুতর ও অসহনীয় বিষয় এবং প্রতিটি শিশুরই সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। মামলাটি আগামী সেপ্টেম্বরে পুনরায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।