সৌদি আরবে আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু হয়েছে। গত ৬ থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র এক সপ্তাহে দেশজুড়ে পরিচালিত যৌথ অভিযানে ১৪ হাজার ৫৪২ জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রোববার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছেন আবাসন আইন লঙ্ঘনের দায়ে, যার সংখ্যা ৭ হাজার ২১৬ জন। এছাড়া সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩ হাজার ৮৪৩ জন এবং শ্রম আইন অমান্য করায় ৩ হাজার ৪৮৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টাকালে আরও ১ হাজার ৪৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ইথিওপিয়ার, ৩২ শতাংশ ইয়েমেনের এবং বাকি ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। অন্যদিকে, অবৈধ উপায়ে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করার সময় ১৯ জনকে আটক করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের যাতায়াত, আশ্রয় বা অন্য কোনো উপায়ে সাহায্য করার অভিযোগে আরও ২২ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
বর্তমানে সৌদি আরবে আইনগত প্রক্রিয়া ও বহিষ্কারের অপেক্ষায় রয়েছেন ৩২ হাজার ৪৭৯ জন প্রবাসী। তাদের মধ্যে ৩০ হাজার ৫৪০ জন পুরুষ এবং ১ হাজার ৯৩৯ জন নারী রয়েছেন। ইতিমধ্যে ১৮ হাজার ৮১৮ জনকে ভ্রমণের প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের জন্য নিজ নিজ দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার ৩৫৫ জনকে ভ্রমণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং ১২ হাজার ৯৪৫ জনকে ইতিমধ্যে সৌদি আরব থেকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
এই অভিযানের পর সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে। মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, অবৈধভাবে কাউকে দেশে প্রবেশে সহায়তা করা, পরিবহন সুবিধা দেওয়া, আশ্রয় দেওয়া কিংবা কোনো ধরনের সাহায্য বা সেবা দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। পাশাপাশি অপরাধে ব্যবহৃত যানবাহন এবং আশ্রয় দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।