নাটোরের বড়াইগ্রামে আদালতের রায়ে জমি না পেয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ নিধন এবং চার শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার পার গোপালপুর গ্রামে প্রকাশ্য দিবালোকে এই ঘটনা ঘটে। এতে ভুক্তভোগীদের প্রায় ছয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চকগোলাপপুর গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছোট ছেলে শাহ আলম তার পারিবারিক পুকুরের একটি অংশের ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ জমি বড়াইগ্রামের জোনাইলের চামটা গ্রামের আব্দুল জাব্বারের কাছে গোপনে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে শাহ আলমের সহোদর ভাই সাইদুল ইসলাম বিষয়টি জানতে পেরে জমিটি ফেরত পাওয়ার আশায় আদালতে একটি প্রিয়েমশন মামলা করেন। সম্প্রতি আদালত সেই মামলার রায় সাইদুলের পক্ষে দেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী জমি ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে তারা আদালতে ৩ লাখ টাকা জমাও দেন।
তবে জমির ক্রেতা আব্দুল জাব্বার ওই টাকা ফেরত না নিয়ে গত সোমবার বিকেলে লোকজন নিয়ে সেখানে যান। এরপর প্রকাশ্যে পুরো পুকুরের পাড়ে লাগানো চার শতাধিক কলাগাছ কেটে ফেলেন তারা। একই সঙ্গে পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে সব মাছ মেরে ফেলা হয়। ভুক্তভোগী সাইদুল ইসলাম জানান, এই ধ্বংসযজ্ঞের কারণে তাদের অন্তত ছয় লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
অবশ্য অভিযুক্ত আব্দুল জাব্বার তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীরা নিজেরাই কলাগাছ কেটে ফেলা এবং পুকুরে বিষ দিয়ে মাছ মারার এই নাটক সাজিয়েছে।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলিউর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।