১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার নবি স্টাইলসের মৃত্যুর কারণ হিসেবে মাঠে বারবার বলে হেড করাকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ফুটবল ক্যারিয়ারের দীর্ঘ ১৭ বছরে তিনি অন্তত ১ লাখ ৩৬ হাজার বার বলে হেড করেছিলেন। এই ধারাবাহিক আঘাতের ফলে তার মস্তিষ্কে ক্রনিক ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি (সিটিই) নামক মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ায় রূপ নেয় এবং ২০২০ সালে ৭৮ বছর বয়সে তার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দক্ষিণ ম্যানচেস্টারের সিনিয়র করোনার অ্যালিসন মাচ এ বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, যদি বারবার হেডের ঘটনা না ঘটত, তবে স্টাইলসের সিটিই হওয়ার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু রোধ করার লক্ষ্যে তিনি ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এবং দেশটির শিক্ষা বিভাগে বিশেষ সুপারিশ প্রেরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নিউরোপ্যাথলজি বিশেষজ্ঞ ড্যানিয়েল ডু প্লেসিস, যিনি স্টাইলসের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করেছেন, তিনিও একই মত পোষণ করেন। তার মতে, বারবার হেড করার কারণে সিটিই হতে পারে—এটি এখন একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য এবং নবি স্টাইলসের ক্ষেত্রে এটি নিশ্চিতভাবেই ঘটেছে।
স্টাইলসের ছেলে জন স্টাইলস তার বাবার অনুশীলনের রুটিন সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, ম্যাচে সাধারণত একজন খেলোয়াড় ১০টির বেশি হেড করেন না। কিন্তু তার বাবা প্রতিদিন অনুশীলনেই ৩০ থেকে ৫০ বার হেড করতেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সেই সংখ্যাই প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। যে হেডের মাধ্যমে একসময় তিনি বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়েছিলেন, আজ সেই হেডিংই ফুটবল বিশ্বের সামনে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—খেলার সৌন্দর্যের আড়ালে ফুটবলারদের মস্তিষ্ক কতটা নিরাপদ?