ইরানের অর্থনীতিকে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরানের তেলসহ আয়ের প্রতিটি উৎসকে লক্ষ্য করেই এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের কোনো দেশ বা কোম্পানি যাতে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করার সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ বা অর্থনৈতিকভাবে একঘরে করার অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। বেসেন্ট একে ‘অর্থনৈতিক ডি–ডে’ বলেও উল্লেখ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৪ সালে ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর সামরিক অবতরণকে ‘ডি–ডে’ বলা হতো। ইরানের বিরুদ্ধে ঘোষিত এই কর্মসূচিতে ‘ডি–ডে’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রবাহিনীর অভিযানের তুলনা টানা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ইরানের পাঁচটি প্রধান ‘লাইফলাইন’ বা অর্থনৈতিক উৎসকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এগুলো হলো ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল এবং নৌপরিবহন। বেসেন্ট হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে তেল কেনাবেচা বা বাণিজ্য চালিয়ে যাবে, তাদের যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হবে। সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা বলতে বোঝায়, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দেশের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় কোনো দেশের ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংকের বিরুদ্ধেও ওয়াশিংটন ব্যবস্থা নেবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যেকোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে হবে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতাদের ফোন করে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য সুনির্দিষ্টভাবে অনুরোধ জানাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বেসেন্ট। তবে ট্রাম্প কাদের সঙ্গে কথা বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। চীনের ব্যাংকগুলোকে কেন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেউই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে নয় এবং বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে নেই যুক্তরাষ্ট্র। এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই সোমবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন। সেখানে তিনি ইরানের স্পিকার গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।