ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৪১ লাখ পরিবারের জন্য কার্ড তৈরির কাজে প্রায় ২৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে। প্রতি কার্ডের উৎপাদন খরচ ৬০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ সরকারি তহবিল থেকে আসবে নাকি সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে শিগগিরই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।
কার্ড তৈরির এই খরচের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, অর্থ স্থানান্তর এবং মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের জন্য আলাদা চার্জের বিষয় রয়েছে। তাই ৪১ লাখ পরিবারকে মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি পুরো ডিজিটাল বিতরণ ব্যবস্থার মোট প্রশাসনিক ও লেনদেন ব্যয় কত দাঁড়াবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সভায় অর্থ বিভাগ, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও খরচের দায়ভার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এই কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুবিধাভোগীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি না করে কীভাবে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এর আগে জানিয়েছিলেন, কার্ড কর্মসূচি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং কার্ড দেওয়ার নামে টাকা দাবি করা প্রতারণার শামিল।
ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ বিতরণে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা হিসেবে 'টাকাপে' ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের হিসাবের পাশাপাশি বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার আন্তঃসংযোগ থাকবে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, এই কর্মসূচি নারীর ক্ষমতায়ন ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানোর একটি মানবিক উদ্যোগ, তাই বাজেট বাস্তবায়নে কোনো বাধা হবে না। সরকার আগামী চার বছরে প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। প্রতি কার্ডে ৬০০ টাকা ব্যয় হিসেবে এই বিশাল প্রকল্পের মোট কার্ড তৈরির খরচ প্রায় ৯৬০ কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াতে পারে।