মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানসহ উত্তর ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা সম্প্রসারিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার ভোররাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই নতুন দফার হামলা পরিচালনা করে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরানের হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা ধ্বংস করার লক্ষ্যেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ অমান্য করার চেষ্টাকালে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে আঘাত হেনে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সেন্টকম নিশ্চিত করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরান ছাড়াও বন্দর আব্বাস, চাবাহার, আহভাজ এবং সেমনান প্রদেশের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রসহ বেশ কিছু শহরে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলায় তাদের একটি সেনা ব্যারাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যেখানে অন্তত ৭ জন সেনাসদস্য নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় ইরান পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন মিত্র দেশ বাহরাইন, কুয়েত এবং জর্ডানকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া ৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। ইরানের এই পাল্টা হামলা মূলত জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্বালানি সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ইরান কখনোই যুদ্ধকে স্বাগত জানায়নি এবং তারা এখনো কোনো যুদ্ধের পক্ষে নয়। তবে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা কূটনৈতিক ও সশস্ত্র প্রতিরোধ—উভয় পথই খোলা রেখেছে। এদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত বন্ধের তাগিদ দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী উভয় পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে।