সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শুক্রবার এক ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের পরিবেশ রাতারাতি বদলে যায়। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রোগীদের জন্য গরম খাবার, নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের নরম ব্যবহার এবং ছুটির দিনেও চিকিৎসক-নার্সদের তৎপরতা দেখে রোগী ও তাদের স্বজনরা অবাক হয়েছেন।
হাসপাতালটির নিয়মিত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, অচল শৌচাগার, নিম্নমানের খাবার, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি এবং দালালের দৌরাত্ম্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল। রোগীর চাপে মেঝে ও বারান্দায়ও রোগীদের ঠাঁই নিতে হয়। তবে মন্ত্রীদের আগমন ঘিরে হাসপাতালের সেবার মান ও পরিচ্ছন্নতায় ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের রোগী ইয়াকুব আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অনেক অনুরোধ করেও তিনি বেডশিট পাননি, কিন্তু শুক্রবার সকালে মন্ত্রী আসার আগে তড়িঘড়ি করে তাকে বেডশিট দেওয়া হয়। তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম জানান, ক্ষোভের কারণে তারা সেই বেডশিট ব্যবহার করেননি।
সুনামগঞ্জ থেকে আসা রোগী জাহাঙ্গীর আহমদ জানান, সাধারণত স্ট্রেচার পাওয়া না গেলেও শুক্রবার জরুরি বিভাগের সামনে বালিশ ও বেডশিটসহ স্ট্রেচার দেখা গেছে। ক্যাজুয়ালিটির রোগী হাফসা খান বাথরুমের সমস্যা ও তেলাপোকার উপদ্রবের কথা তুলে ধরেন। এছাড়া বৃহস্পতিবার রাত থেকেই হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ধোয়া-মোছার কাজ চলে এবং শিশু ওয়ার্ডে মন্ত্রীরা যাওয়ার আগে বাথরুম পরিষ্কার করতে দেখা যায়। ছুটির দিনে সাধারণত চিকিৎসকদের পাওয়া কঠিন হলেও শুক্রবার চিকিৎসক ও নার্সরা বারবার রোগীদের খোঁজ নিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রী ওসমানী হাসপাতাল পরিদর্শন করেন এবং পরে সিলেট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল ও শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গত ছয় মাসে সেবার মান বেড়েছে এবং ওসমানী হাসপাতালের সমস্যাগুলো সাত দিনের মধ্যে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে সাত কর্মদিবসের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে সাড়ে ৭ হাজার নার্স ও আড়াই হাজার চিকিৎসকসহ মোট ৪৩ হাজার ৩৯০ জন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া চলতি মাসের শেষদিকে হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী বিশেষ টিকা কর্মসূচি শুরু হবে এবং সরকারি হাসপাতালগুলো দালালমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে বলে তিনি জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে বড় পরিসরে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে সাড়ে ৭ হাজার নার্স, আড়াই হাজার চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে মোট ৪৩ হাজার ৩৯০ জন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মিডওয়াইফ ও পরিচর্যাসেবা-সংশ্লিষ্ট পদে ৮০ শতাংশ নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, পর্যাপ্ত টিকা আনা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিলের টিকা কর্মসূচিতে ছয় মাসের কম বয়সী শিশুরা টিকা পায়নি। পরে ছয় মাস বয়স পার করলেও নিয়মিত কর্মসূচি না থাকায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। এসব শিশুকে টিকার আওতায় আনতে চলতি মাসের শেষদিকে আবারও কর্মসূচি শুরু করা হবে।