দেশের স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে ঢাকার পাশাপাশি অপর ছয়টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আধুনিক রোগ নির্ণয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দিয়েছে, যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৬৯ কোটি ৪৯ লাখ ৪০ হাজার ৩০৬ টাকা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
এই যন্ত্রপাতি কেনার কাজটি সম্পন্ন হবে ‘শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন (কম্পোনেন্ট-২): দেশের ৮টি বিভাগীয় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়াগনস্টিক ইমেজিং ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ (২য় সংশোধিত)’ প্রকল্পের অধীনে। মূলত দুটি আলাদা প্যাকেজের মাধ্যমে এই আধুনিক সরঞ্জামগুলো সংগ্রহ করা হবে। সংগৃহীত যন্ত্রপাতির তালিকায় রয়েছে ডিজিটাল এক্স-রে, এনজিওগ্রাফি, গ্যাস্ট্রোস্কোপি, কোলনোস্কোপি, এমআরআই, সিটি স্ক্যানার, ম্যামোগ্রাফি ও আলট্রাসনোগ্রাফি। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোর ডায়াগনস্টিক ইমেজিং বিভাগে এগুলো স্থাপন করা হবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১ জুলাই এই দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল, যা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত চলমান থাকবে। প্রকল্পটির সর্বমোট সংশোধিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ২০২ কোটি ৩৯ লাখ ২৭ হাজার টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে দেবে ২৭৫ কোটি ৮৮ লাখ ৯ হাজার টাকা। বাকি ৯২৬ কোটি ৫১ লাখ ১৮ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে জোগান দিচ্ছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।
যন্ত্রপাতি ক্রয়ের প্রথম প্যাকেজের আওতায় কেনা হবে ডিজিটাল এক্স-রে, এনজিওগ্রাফি, গ্যাস্ট্রোস্কোপি, কোলনোস্কোপি এবং পিএসিএস/আরআইএস। এই প্যাকেজের জন্য সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (আরডিপিপি) ২১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। দরপত্র প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন ও যোগ্য দরদাতা হিসেবে জাপানের এরবিস ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেডকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত দর ছিল ২৫০ কোটি ২৭ লাখ ১০ হাজার জাপানি ইয়েন, যা নির্ধারিত বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ২০২ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৩০৬ টাকা। এই প্যাকেজের দরপত্র প্রক্রিয়ায় এরবিস ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড এবং গ্রিন হাসপাতাল সাপ্লাই ইনকরপোরেটেড অংশ নিয়েছিল। তবে কারিগরি মূল্যায়নে গ্রিন হাসপাতাল সাপ্লাই অযোগ্য ঘোষিত হয় এবং এরবিস ইঞ্জিনিয়ারিং যোগ্য বিবেচিত হয়। ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল জাইকার অনাপত্তি পাওয়ার পর ২৪ মে আর্থিক প্রস্তাব খোলা হয় এবং পরবর্তীতে ২৯ জুলাই জাইকার চূড়ান্ত অনাপত্তি মেলে।
দ্বিতীয় প্যাকেজের আওতায় কেনা হবে এমআরআই, সিটি স্ক্যানার, ম্যামোগ্রাফি ও আলট্রাসনোগ্রাফি। এই প্যাকেজে বরাদ্দ ছিল ২১৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যার বিপরীতে প্রকৃত ব্যয় হচ্ছে ১৬৭ কোটি১২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ফুজিফিল্ম হেলথ কেয়ার এশিয়া প্যাসিফিক পিটিই লিমিটেড এবং ফুজিফিল্ম মিডল ইস্ট এফজেডই দুবাইয়ের যৌথ উদ্যোগকে এই প্যাকেজের সরবরাহকারী হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের প্রস্তাবিত দর ১ কোটি ৩৭ লাখ ১০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৬৭ কোটি ১২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। এই প্যাকেজের দরপত্রে তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়—এরবিস ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ফুজিফিল্মের যৌথ উদ্যোগ এবং সিমেন্স হেলথিনিয়ার্স লিমিটেড। কারিগরি মূল্যায়নে এরবিস ইঞ্জিনিয়ারিং ও ফুজিফিল্মের যৌথ উদ্যোগকে যোগ্য বিবেচনা করার পর সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে ফুজিফিল্মের যৌথ উদ্যোগকে কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।