ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখার পতনের পর দেশটির তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের দিকে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী সেখানে বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। মারিব শহরটি সরকারি বাহিনীর উত্তরাঞ্চলের প্রধান সরবরাহ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এবং এটি হাতছাড়া হলে সরকারি বাহিনীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের বাইরেও তাদের হামলা জোরদার করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এই হামলা করেছে। এর বিপরীতে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় গত ৪৮ ঘণ্টায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে হুতিরা অভিযোগ করেছে। এছাড়া সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তের কাছে জাজান প্রদেশের আল-তুওয়াল এলাকায় একটি হামলায় বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই সংঘাতের ফলে ইয়েমেনের বড় তেল ও গ্যাসকেন্দ্রগুলো হুমকির মুখে পড়েছে। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। হুতিদের ড্রোন হামলার জেরে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ হয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে, লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর পরাজয়কে ‘দুঃখজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য ও মারিবের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা। সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের তথ্যমতে, গত ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লড়াইয়ে তাদের পাঁচ শতাধিক সেনা নিহত এবং প্রায় দেড় হাজার সেনা আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, জুলাই মাসে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এরই মধ্যে দুই হাজারের বেশি মানুষ আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। ২০১৪ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ইয়েমেনের পরিস্থিতি এখন নতুন করে সংকটের দিকে মোড় নিয়েছে, যার ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।