দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে দেশে ফিরে আসা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে রক্ষা করা এবং একে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই এখন সবার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি করপোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা করা এখন আমাদের সবচেয়ে বড় কাজ। সরকারি ও বিরোধী দল—উভয়েরই দায়িত্ব হলো গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা এবং সংসদকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দেশের পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলাই এখনকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। দল-মত নির্বিশেষে অভিন্ন স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সিলেটের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি অঞ্চলের সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সাহিত্য, সঙ্গীত, মুক্তিযুদ্ধ ও রাজনৈতিক আন্দোলনে সিলেটের অবদান অনস্বীকার্য। পর্যটন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে পাহাড়, নদী, চা-বাগান ও হাওরকে কাজে লাগাতে পারলে এ খাতে বড় উন্নয়ন সম্ভব। বিশেষ করে হাওর ও জলাশয়কে কেন্দ্র করে মৎস্য চাষ এবং নতুন শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে, যেখানে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি ও প্রবাসী বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজারগুলো পুনরায় খোলার প্রক্রিয়া চলছে। সিলেটে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বাংলাদেশের সৌন্দর্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হুইপ জি কে গউছ এবং রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সভাপতিত্ব করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। সংবর্ধনা শেষে রাষ্ট্রপতির সম্মানে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।