প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম। সরকার বাস ভাড়া বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় শুরু হয়ে গেছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই নৈরাজ্য মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। ঢাকার বিভিন্ন রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ৫ থেকে ২০ টাকা এবং দূরপাল্লার বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটেও একইভাবে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়ের কারণে যাত্রী ও পরিবহণকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
রোববার রাতে সরকার ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ালে সোমবার থেকে তা কার্যকর হয়। তখন পর্যন্ত বাসের নতুন ভাড়া নির্ধারিত ছিল না। এরপরও সোমবার সকাল থেকে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস, মিনিবাস ও লেগুনায় বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু হয়। মঙ্গলবার সকালেও রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, গুলিস্তান, পল্টন ও শাহবাগ এলাকায় ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। অবশেষে মঙ্গলবার বিকেলে সরকার কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানায়।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানান, সায়েন্সল্যাব থেকে সাভার পরিবহণের বাসে ২০ টাকার পরিবর্তে ২৫ টাকা, নতুনবাজার থেকে ভিক্টর পরিবহণে ৩০ টাকার পরিবর্তে ৪০ টাকা এবং মতিঝিল থেকে দৈনিক বাংলা মোড়ে যাওয়ার পথে ৮ নম্বর বাসে ১০ টাকার পরিবর্তে ১৫ টাকা নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও কন্ডাক্টররা সর্বনিম্ন ভাড়া ১৫ টাকা দাবি করে যাত্রীদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এছাড়াও সাইনবোর্ড থেকে নতুনবাজারগামী ইকবাল পরিবহণের এসি বাসে ১০০ টাকার বদলে ১২০ টাকা এবং মহাখালী থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত বিভিন্ন বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম মহানগরেও একই চিত্র দেখা গেছে। আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, চকবাজার ও নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বাস ও টেম্পোতে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত ৩৫ টাকার ভাড়া ৪৫ থেকে ৫০ টাকা নেওয়া হয়। বহদ্দারহাট থেকে শিকলবাহা ক্রসিং পর্যন্ত সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২২ টাকা হলেও আদায় করা হয় ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। পটিয়া রুটে ৫৯ টাকার ভাড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা এবং কেরানীহাট পর্যন্ত ১১২ টাকার ভাড়া ১৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বাসযাত্রী নাসির উদ্দিন বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কমলে গণপরিবহণের ভাড়া কমানো হয় না। কিন্তু দাম বাড়লে রাতারাতি ভাড়া বেড়ে যায়। গ্যাসচালিত গাড়িতেও ডিজেলচালিত বাসের মতো বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দূরপাল্লার বাসের ক্ষেত্রেও গাবতলী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বিভিন্ন বাসে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ মিলেছে। মাগুরা ও রংপুরগামী যাত্রীদের আগের চেয়ে ৫০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুণতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী অভিযোগ করেন, যাত্রীদের প্রতিনিধিত্ব ছাড়াই পরিবহণ মালিকদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে এই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে সিটি সার্ভিসে ১০ পয়সা এবং দূরপাল্লায় ৮ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। এছাড়া ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে, কোনো ধরনের গণশুনানি বা অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই এই দাম বাড়ানো হয়েছে।