প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯: ২৯। বাংলাদেশে পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণের সিদ্ধান্তে নারীরা পুরুষের তুলনায় অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন। জন্মনিয়ন্ত্রণের সাতটি আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে নারীরা পাঁচটি পদ্ধতি ব্যবহার করেন, যেখানে পুরুষদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে মাত্র দুটি পদ্ধতি—কনডম ও ভ্যাসেকটমি।
পরিসংখ্যান বলছে, জন্মনিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারে নারীদের হার ৬৩ শতাংশ, অন্যদিকে পুরুষদের কনডম ব্যবহারের হার মাত্র ৭ শতাংশ। চিকিৎসকদের মতে, জন্মনিয়ন্ত্রণের এই দায়িত্ব যৌথ হওয়া উচিত, কারণ স্বামী-স্ত্রী উভয়ের অংশগ্রহণ ছাড়া এটি টেকসই হতে পারে না। উদ্বেগের বিষয় হলো, নারীরা যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করেন তার কোনোটিই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত নয় এবং এসব গ্রহণে তারা শারীরিক ও মানসিক সংকটে ভোগেন। বিপরীতে, পুরুষদের জন্য তৈরি কনডম অত্যন্ত সহজলভ্য এবং এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডা. মুনিরা ফেরদৌসী জানান, কনডম প্রায় ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে গর্ভধারণ রোধের পাশাপাশি প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণ থেকেও সুরক্ষা দেয়। তবুও পুরুষদের মধ্যে এর ব্যবহারের আগ্রহ অত্যন্ত কম। তিনি আরও বলেন, কার্যকর পরিবার পরিকল্পনা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ ও গর্ভপাতের হার কমিয়ে তরুণ প্রজন্মের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে সহায়তা করে।
আজ দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস। ২০০৭ সাল থেকে বাংলাদেশে পালিত হয়ে আসা এই দিবসের এবারের মূল বার্তা হলো—'গর্ভনিরোধের ক্ষেত্রে বাধা নয়, প্রয়োজন ইনফরমড চয়েজ এবং সহজলভ্যতা'। অর্থাৎ নারী ও পুরুষ প্রত্যেকে যেন তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপদ পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তাদের প্রচারণায় থাকা সাতটি আধুনিক পদ্ধতির মধ্যে খাবার বড়ি বা পিল, ইনজেকশন, কপারটি বা আইইউডি, ইমপ্ল্যান্ট এবং টিউব লিগেশন নারীদের জন্য নির্ধারিত। জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর চাহিদার মাত্র ৩৭ শতাংশ সরকার সরবরাহ করে, বাকি ৬০ শতাংশ বেসরকারি খাত এবং ৩ শতাংশ এনজিওর মাধ্যমে আসে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুসারে, ১৫-৪৯ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ৬৩.৩ শতাংশ আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন। বিশেষ করে ২০-২৪ এবং ৩০-৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ কোটি ৮০ লাখ নারী গর্ভনিরোধের প্রয়োজন বোধ করলেও ৮ কোটি ৪০ লাখ নারী এখনো কোনো নিরাপদ পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারেন না, যা অনিচ্ছাকৃত গর্ভাবস্থা ও মাতৃমৃত্যুর হার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বিশ্ব গর্ভনিরোধ দিবস এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদন অনুযায়ী, নারীরা পুরুষের তুলনায় বেশি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার করেন। নারীদের মধ্যে ৬২.৩ শতাংশ আধুনিক জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এর বিপরীতে মাত্র ১ শতাংশ নারী সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করছেন।