রাজধানীতে ঘটা সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহমেদ মিয়া। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে পুলিশের অবস্থান জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, এটি অবশ্যই আমার কাছে মনে হয় যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত। কারণ, তিনি কেন এমন মন্তব্য করলেন তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে পুলিশ তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, তাদের তিনটি দাবি না মানলে ঢাকা শহরে ককটেল বিস্ফোরণ বন্ধ হবে না। তার এই বক্তব্যের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছিল। তবে বর্তমান প্রতিবেদনে তার এই মন্তব্যের সাথে ককটেল বিস্ফোরণের সরাসরি সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে যাত্রাবাড়ী ও শ্যামপুর থানা যৌথভাবে কাজ শুরু করে। এই তদন্তের সূত্র ধরে শুক্রবার ভোরে শ্যামপুর থানা পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহিদ হাসান ইমনকে গ্রেপ্তার করে। ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দেড় কেজি কস্টিক সোডা, ১ কেজি ৬০০ গ্রাম সালফার, ৫ কেজি মারবেল, ২ কেজি তারকাঁটা এবং ককটেল মোড়ানোর ২০টি লাল ও ১১টি কালো কসটেপ উদ্ধার করে। এছাড়াও ৯ হাজার কাগজের মুখোশ, ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক এবং ককটেল তৈরির উপাদান গুঁড়া করার একটি ব্লেন্ডার ও জার জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন যে লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাত এক ভ্যানচালকের সহায়তায় মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং সেগুলো নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিতরণের জন্য রাখা হয়েছিল। ইমনের বিরুদ্ধে শাহবাগ ও লালবাগ থানায় দুটি মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে।