বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার একটি চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। এই প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় শর্তগুলো পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিটি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। বিবিসি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানের প্রতিনিধি আরাঘচি স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের জানান, যদি প্রয়োজনীয় শর্তগুলো মেনে নেওয়া হয়, তবেই চুক্তিটি করা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন এই প্রস্তাবের বিষয়বস্তু জুনে ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক চুক্তির আদলেই তৈরি করা হয়েছে।
ইরানের এই প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে এ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এই আলোচনার মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক পাল্টা হামলা শুরু করে। একই সময়ে তারা হরমুজ প্রণালিও বন্ধ করে দেয়। এই যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট চাহিদার ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই রুট দিয়ে সরবরাহ হতো। ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দিলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ও টালমাটাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ফলে এই যুদ্ধ কীভাবে বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের ওপর এখন প্রবল চাপ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে আরাঘচি সাংবাদিকদের বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে। তবে এই প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কী পদক্ষেপ নেবে, তা এখন সম্পূর্ণ তাদের ওপর নির্ভর করছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানের এই শর্তযুক্ত প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না, তার ওপরই এখন লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরের ভবিষ্যতের তেল সরবরাহ ব্যবস্থা নির্ভর করছে।