বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১৮তম প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ২৩ জুলাই অপরাহ্ন থেকে তিনি ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তিনি ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের জন্য এ দায়িত্ব পালন করবেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম ১৯৮৭ সালের ১ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে যোগদান করেন। রয়েল মালয়েশিয়ান নৌবাহিনীতে প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৮৯ সালের ১ জুলাই তিনি এক্সিকিউটিভ শাখায় কমিশন লাভ করেন। তৎকালীন ৮৭-এ ব্যাচে মেধা ও জ্যেষ্ঠতায় তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি উজ্জ্বল কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধাতালিকায় স্থান অর্জন করায় তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। উচ্চশিক্ষায় তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) থেকে মেরিটাইম গভর্ন্যান্স বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও এমফিলের পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ, ডিফেন্স স্টাডিজ এবং অপারেশনাল স্টাডিজ বিষয়ে দেশ-বিদেশ থেকে তিনটি মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন তিনি। এছাড়া তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ (ডিএসসিএসসি) এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের কৃতি গ্র্যাজুয়েট।
প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম নৌবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও স্টাফ দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল (কমচিট), কমান্ডার ঢাকা নৌ অঞ্চল (কমঢাকা), কমান্ডার সাবমেরিন (কমসাব) এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির কমান্ড্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নৌবাহিনী সদর দপ্তরে পরিচালক (নৌ অপারেশনস) ও পরিচালক (নৌ পরিকল্পনা) হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
তার কমান্ডে থাকা নৌজাহাজ ও ঘাঁটির মধ্যে রয়েছে বানৌজা ওমর ফারুক, বানৌজা এস আর আমিন, বানৌজা নির্ভয়, বানৌজা সৈকত এবং নৌঘাঁটি বানৌজা তিতুমীর। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি, ডিএসসিএসসি ও ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।