শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মেতে উঠেছেন দেবীর আরাধনায়। সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশের আকুতি জানিয়ে এবং সব ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার প্রার্থনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে মণ্ডপগুলো। হিন্দু আচার অনুযায়ী, মহালয়া, বোধন আর সন্ধিপূজা—এই তিন পর্ব মিলে দুর্গোৎসব। আশ্বিন মাসের শুক্ল পক্ষের ষষ্ঠ দিনে মহাষষ্ঠী থেকে শুরু হয়ে দশম দিনে বিজয়া দশমী পর্যন্ত দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা থাকে ৫ দিন। শনিবার সকালে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে মহাসপ্তমীর রীতি অনুযায়ী নবপত্রিকা স্থাপন ও কলাবউয়ের মহাস্নানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ৭টা ৩৯ মিনিটে নবপত্রিকা স্থাপনের পর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা সম্পন্ন হয়েছে।
ভোর থেকেই ঢাকেশ্বরী মন্দিরে ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঢাক, ঢোল, কাঁসর ও শঙ্খের ধ্বনিতে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখরিত ছিল। পুরোহিত ও ভক্তদের একটি দল লালপাড় সাদা শাড়িতে মোড়ানো নবপত্রিকা বা কলাবউ মাথায় নিয়ে মন্দিরের পাশের জলাশয়ে গিয়ে মহাস্নান সম্পন্ন করেন। স্নান শেষে কলাবউকে প্রতিমার ডানপাশে স্থাপনের মাধ্যমেই মূল বিহিত পূজা শুরু হয়। মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির উপদেষ্টা মনীন্দ্র কুমার নাথ জানিয়েছেন, সপ্তমীর তিথিতে দেবীর মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ষোড়শোপচার পূজা শেষে ভক্তরা পুষ্পাঞ্জলি প্রদান করেন।
আশ্বিন শুক্লপক্ষের এই ১৫টি দিন দেবীপক্ষ, যার মাঝে ষষ্ঠ দিনে বোধন এবং দশম দিনে বিসর্জনের মাধ্যমে মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়। এ বছর মহাসপ্তমী তিথি শনি ও রবিবার দুই দিনব্যাপী বিস্তৃত হওয়ায় উৎসবের আমেজ কিছুটা দীর্ঘ হয়েছে। পূজা উপলক্ষে ঢাকেশ্বরী মন্দিরসহ আশপাশের এলাকা বর্ণিল আলোকসজ্জায় সেজেছে। মন্দির প্রাঙ্গণে ছোটখাটো মেলাও বসেছে। ভক্তদের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকরা কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছেন। মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি গোপাল চন্দ্র দেবনাথ জানান, অঞ্জলি শেষে বিশ্ববাসী ও বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষের মধ্যে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, নবপত্রিকা হলো কদলী, কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মান ও ধান—এই নয়টি উদ্ভিদের সমষ্টি। এগুলোর সঙ্গে শ্বেত অপরাজিতা লতা ও একজোড়া বেল বেঁধে শাড়ি পরিয়ে বধূর রূপ দেওয়া হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, ত্রেতাযুগে ভগবান রাম অকালবোধন করেছিলেন দেবী দুর্গার, যা থেকেই শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রচলন। এদিকে, ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা ৩টি কমে গেছে।