প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ড ও দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না ফেলার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন। সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সোমবার থেকেই তিনি এই পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই সুযোগ দিয়েছেন।
পদত্যাগের সিদ্ধান্তের পেছনে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইশরাক বলেন, তিনি চান না তার কোনো কর্মকাণ্ডের কারণে প্রধানমন্ত্রী বা তার দল কোনো বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ুক। ইশরাক বলেন, ‘আমার দ্বারা কোনো ভুল হয়ে থাকলে, কাউকে আঘাত দিলে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। কিন্তু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমি কোনো ভুল করিনি। শুধু নিজের নিরাপত্তার জন্য কিছু সময় ব্যক্তিগত অস্ত্র হাতে রেখেছিলাম।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা জমি দখল বা চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে ইশরাক হোসেন বলেন, তিনি মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্যেই অভিযানে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের যোগসাজশ রয়েছে। গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর এলাকায় পুলিশ যেতে ভয় পায় কারণ মাদক কারবারিরা ওপর থেকে গুলি চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতেই তিনি থানাকে অবহিত করে মাদক কারবারিদের আস্তানা ধ্বংস করতে সেখানে অভিযান চালিয়েছিলেন।
ইশরাক আরও জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে অস্ত্র ও অর্থ থাকায় সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে পারেন না। তার দাবি, গেন্ডারিয়ার ঘুণ্টিঘর ও মুন্সিরটেক এলাকা মাদকের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এবং সেখানে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। অভিযানের মূল উদ্দেশ্য থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিতেই বিভিন্ন ধরনের বয়ান তৈরি করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন জানান, প্রধানমন্ত্রী তাকে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জনজীবনের সমস্যা সমাধানে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ইশরাক হোসেন।