জর্ডানে গত শুক্রবার ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মার্কিন বাহিনীর দুই সেনা নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও একজন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। জর্ডানে ইরানের এই হামলার জেরে ইরানজুড়ে নতুন করে বড় ধরনের বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় শনিবার (১৮ জুলাই) থেকে এই অভিযান শুরু হয়েছে। ইরানি স্থানীয় সময় রোববার (১৯ জুলাই) রাত দেড়টা থেকে নতুন করে এই বিমান হামলা জোরদার করা হয়। মূলত ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু গুঁড়িয়ে দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার সাথে জড়িত আইআরজিসি সদস্যদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি দেওয়ার সক্ষমতাকে দুর্বল করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর মধ্যে রোববার ভোরে কেশম দ্বীপে অন্তত ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও বিস্ফোরণ ঘটেছে।
এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সেন্টকম ও মিত্র বাহিনীর অভিযানে ওই হতাহতের ঘটনা ঘটে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনায় আহত চার মার্কিন সেনাকে জর্ডানের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারাও চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে গেছেন। বার্তাসংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
শনিবার সেন্টকম জানায়, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুজন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। ১৭ জুলাই জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে সেন্টকম ও মিত্র বাহিনীর অভিযানের সময় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন।