আর মাত্র একটি ম্যাচ বাকি, আর তার পরেই পর্দা নামবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের। তবে এই একটি ম্যাচকে ঘিরেই পুরো ফুটবল বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপীয় শক্তি স্পেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর আলোচনার বড় অংশজুড়েই রয়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি।
২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন মেসি। অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সেখানেই হয়তো তার বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি ঘটবে। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে তিনি ২০২৬ বিশ্বকাপেও অংশ নেন এবং দলকে নেতৃত্ব দিয়ে ফাইনালে নিয়ে আসেন। এ কারণে বিশ্বজুড়ে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—এটিই কি মেসির শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ? যদিও মেসি আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কিছু বলেননি, তবে বয়স এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাস্তবতা বিবেচনায় অনেকেই মনে করছেন এটিই হতে পারে বিশ্বকাপে তার শেষ উপস্থিতি। ফলে ফাইনালটি শুধু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়, বরং এটি একটি যুগের শেষ অধ্যায়ের সম্ভাব্য সাক্ষী হয়ে উঠেছে।
আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কীর্তি গড়ার সুযোগ। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসানের অপেক্ষায় এখন আলবিসেলেস্তেরা। অন্যদিকে, স্পেনও শিরোপা জয়ের জন্য মরিয়া। পুরো টুর্নামেন্টে দারুণ ছন্দে থাকা স্প্যানিশরা আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত পাসিং এবং তরুণদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে তারা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ফাইনালটি হবে কৌশল, অভিজ্ঞতা ও মানসিক দৃঢ়তার লড়াই। একদিকে মেসির অভিজ্ঞ নেতৃত্ব, অন্যদিকে স্পেনের গতি ও দলগত ফুটবলের সংঘাতই নির্ধারণ করবে এবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে এটি মেসিকে বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় জানানোর সবচেয়ে সুন্দর উপলক্ষ হতে পারে। এখন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর নজর শেষ বাঁশির দিকে—মেসির হাতে কি আবারও উঠবে সোনালি ট্রফি, নাকি স্পেন লিখবে নতুন ইতিহাস?