বুলাওয়েতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার শেষ টি-টুয়েন্টি ম্যাচটি শেষ হয়েছে দারুণ নাটকীয়তায়। ১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৫ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। সহজ জয়ের পথেই ছিল সফরকারীরা, কিন্তু ব্রাড ইভান্সের করা শেষ ওভারের শুরুতে দৃশ্যপট বদলে যায়। তানজিদ হাসান প্রথম বলে রান নিলেও পরের বলে মোসাদ্দেক বোল্ড হন এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন মিড অনে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তিন বলে চার রান দরকার থাকা অবস্থায় চতুর্থ বলটি মেহেদী হাসানের প্যাডে লাগলে আম্পায়ার ফিল্ডারের হাঁটাচলার কারণে সেটিকে ‘ডেড বল’ ঘোষণা করেন, যা নিয়ে ইভান্স ও তানজিদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান পরের বলে চার মেরে দলকে ৪ উইকেটের জয় এনে দেন এবং ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন। এই সফরের আগের টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের কাছে পরাজিত হয়েছিল।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওভারেই তাদিয়ানসি মারুমানিকে হারায়। ব্রায়ান বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ এবং মায়ার্স ৩৮ বলে ফিফটিসহ ৫৩ বলে ৭৩ রান করলেও বাকিদের ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ে দেড় শ রানের কোটা পার করতে পারেনি। শেষ ওভারে তাসকিন দারুণ বোলিং করে কোনো বাউন্ডারি হজম না করায় জিম্বাবুয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয়।
রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল। পাওয়ার প্লেতে মাত্র ৩০ রান তোলার পর পারভেজ ও তানজিদের ৫৫ রানের জুটি কিছুটা স্বস্তি আনে। এরপর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় ও তানজিদের ৪৪ বলে ৬৩ রানের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৬৬ রান করে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন ওপেনার তানজিদ।
স্ট্রাইক পেয়ে বোল্ড হন ৩ বলে ১ রান করা মোসাদ্দেক।
বুলাওয়েতে ১৪৪ রান তাড়া করতে নেমে ২ বল আগে পাওয়া এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজটাও ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ।