১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুইবার বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা। তবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালের আগে ফিফার নির্ধারিত সূচি এবং বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আলবিসেলেস্তে কোচ লিওনেল স্কালোনি।
আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করার পর আর্জেন্টিনা দল নিউজার্সিতে পৌঁছায়। এরপরই তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয় বাধ্যতামূলক অনুশীলন ও নানা মিডিয়া কার্যক্রম। শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে স্কালোনি জানান, খেলোয়াড়দের পর্যাপ্ত বিশ্রামের প্রয়োজন থাকলেও ফিফার সূচির কারণে তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে অনুশীলন করতে হয়েছে। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-কে তিনি বলেন, ‘আমরা গতকাল রাত ১১টার দিকে এখানে পৌঁছেছি, তাই এখন কেবল একটু বিশ্রামের সুযোগ পাচ্ছি। কিন্তু আজ এমন সময়ে অনুশীলন করতে হয়েছে যা আমরা চাইনি। সংবাদ সম্মেলন ও আনুষ্ঠানিকতার চাপে তাড়াহুড়োয় সেশন শেষ করতে হয়েছে, যেখানে কৌশলগত প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না।’
স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টায় যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমের মধ্যে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অনুশীলনে নামতে হয়। টুর্নামেন্টের নকআউট পর্ব থেকেই ব্যস্ত সূচি ও বিশ্রামের অভাব নিয়ে স্কালোনি বারবার অভিযোগ তুলে আসছেন। বিশেষ করে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগে তিনি বলেছিলেন, টুর্নামেন্টের শেষ দিকে খেলোয়াড়দের বিশ্রামের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি থাকলেও এখানে উল্টো ঘটনা ঘটছে। মায়ামির প্রচণ্ড গরমে খেলার পরদিনই দুপুরে ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মোটেও আদর্শ নয় বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তার মতে, মিসরের বিপক্ষে সেই ম্যাচে প্রতিপক্ষ কিছুটা বেশি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পেয়েছিল, যা বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে পার্থক্য গড়ে দেয়।
ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে এসেও স্কালোনি একই সুর বজায় রেখেছেন। গত ১৫ দিনে এটি দলের পঞ্চম ম্যাচ হতে যাওয়ায় শারীরিক ধকল কাটিয়ে ওঠাই এখন তাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। লিওনেল মেসি ও হুলিয়ান আলভারেজদের শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন পুরোপুরি বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দিচ্ছি। দলের কয়েকজন এখনো শতভাগ ফিট নয়, তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি মাথায় রেখে আমরা নিজেদের স্বাভাবিক খেলার ধরন বজায় রাখার চেষ্টা করব।’ আগামী রোববার নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচে জিততে পারলে ৬৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের বিরল কৃতিত্ব অর্জন করবে স্কালোনির শিষ্যরা।