বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সঙ্গে সাক্ষাত করে ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। রোববার অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতকালে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ তুলে ধরেন।
পরিষদের নেতারা দাবি জানান যে, বর্তমানে পুঁজিবাজারে পর্যাপ্ত মৌলভিত্তিক স্টকের অভাব রয়েছে। এমতাবস্থায় স্ক্রিপ নেটিং বা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং সুবিধা চালু করা হলে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন। তাই পুঁজির নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল রাখার আহ্বান জানান তারা। অন্যথায় এই সিদ্ধান্তের দায়ভার বিএসইসি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের বহন করতে হবে বলে তারা সতর্ক করেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিএসইসি দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে স্ক্রিপ নেটিং চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল।
বিনিয়োগকারী পরিষদের পক্ষ থেকে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরতের বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয় ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। নেতারা অভিযোগ করেন, এই ব্যাংকগুলোর শেয়ার শূন্য ঘোষণা করায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। এছাড়া মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে নেতারা বলেন, ফান্ড ম্যানেজাররা আইন অমান্য করে ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ অর্থ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে আটকে রেখেছেন। তারা এই অর্থ নিয়ম অনুযায়ী শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সাক্ষাতকালে বিএসইসি চেয়ারম্যান বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস প্রদান করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের সভাপতি আ ন ম আতাউল্লাহ নাঈম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিক ইখতিয়ার, সিনিয়র সহ-সভাপতি একিউএম সিদ্দিক উল্লাহ, সহ-সভাপতি জহিরুল আলম জামাল, সিনিয়র সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন এবং যুগ্ম সম্পাদক মো. শরীফ বিল্লাহ।